বিনিয়োগের আগে শিল্প সংস্থার আর্থিক-আইনি রেকর্ড যাচাই
আজকাল | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে শিল্প সংস্থাগুলির আর্থিক ও আইনি বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই থেকে শুরু করে জমি, ব্যাঙ্ক অর্থায়ন এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র—প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখেই সরকার এগোচ্ছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মধ্যে একাধিক বড় বিনিয়োগ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলে দাবি তাঁর। আগামী আট মাসে আরও বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুক্রবার একটি সংস্থার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী কোনও সংস্থা বা শিল্পপতির প্রস্তাব এলেই সরাসরি প্রকল্প অনুমোদন করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক অবস্থান, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং আইনি রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও ব্যাঙ্ক জালিয়াতি বা অন্য কোনও আইনি সমস্যা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্পের জন্য জমি পাওয়া যাবে কি না, ব্যাঙ্কের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে কি না এবং প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন মিলবে কি না, সেই বিষয়গুলিও দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, শুধু বিনিয়োগের ঘোষণা হলেই হবে না, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার। সেই কারণেই জমি, অর্থায়ন এবং পরিবেশগত অনুমোদনের বিষয়গুলি আগেভাগে যাচাই করা হচ্ছে।
একাধিক বড় প্রকল্পের অগ্রগতি
গত চার মাসে রাজ্যে বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। দামোদর উপত্যকা এলাকায় একটি প্রকল্পের সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে বলে জানান তিনি।
এর পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার একটি সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। রঘুনাথপুরে একটি শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি সংক্রান্ত কাজও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
খাদ্য ও কৃষি-ভিত্তিক শিল্পের ক্ষেত্রেও ইতিমধ্যে বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে আমুলের আরও দু’টি বড় প্ল্যান্ট তৈরির প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শিল্প পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের আশা।
নিউ টাউনে ডেটা সেন্টার, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প
নিউ টাউনে একটি বড় ডেটা সেন্টারের কাজ শুরু হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তথ্যপ্রযুক্তি ও ডেটা পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রকল্পকে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও নতুন প্রকল্প আসার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। DRDO-র একটি বড় প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে আসছে বলে দাবি তাঁর। প্রকল্পটির বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
পুজোর আগে ৪৩ প্রকল্পে জমি হস্তান্তরের পরিকল্পনা
দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যে বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে শিল্প ও ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্রায় ৪৩টি প্রকল্পের জন্য জমি হস্তান্তর করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, জমি হস্তান্তরের পাশাপাশি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে যাওয়া প্রকল্পগুলির অগ্রগতিও সরকারের নজরে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ‘ফাউন্ডেশন’ বা ঘোষণার পর্যায়ে না থেকে প্রকল্প যাতে বাস্তবে এগোয়, সেদিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকার একটি পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গাপুজোর আগে সেই প্রকল্পের উদ্বোধন হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি আগে ঘোষিত বিনিয়োগের বাস্তবায়নকেও সামনে আনতে চাইছে রাজ্য সরকার।
আগামী আট মাসে আরও প্রকল্পের আশা
নতুন সরকারের চার মাস পূর্ণ হওয়ার পর রাজ্যে বিনিয়োগের পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী আট মাসে আরও একাধিক বিনিয়োগ প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে।
সরকারের লক্ষ্য, বিনিয়োগের সঙ্গে কর্মসংস্থান এবং শিল্প পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ ঘটানো। সেই উদ্দেশ্যে শিল্প সংস্থাগুলির প্রস্তাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও জমি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।