আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভুয়ো সিম কার্ড বিক্রির অভিযোগে তিলজলা থানায় মামলা রুজু হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার তিলজলা থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং টেলিকমিউনিকেশন আইন, ২০২৩-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে ভুয়ো সিমের কারবারের পিছনে আরও কেউ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে তিলজলা রোডের জয় মাতাদি কমিউনিকেশন নামে একটি পয়েন্ট অব সেল (পিওএস)। অভিযোগ, ওই পিওএস-এর এজেন্টেপ নিজের আইডি ব্যবহার করে ভুয়ো সিম কার্ড বিক্রি করা হচ্ছিল। পিওএস-এর এজেন্ট বা মালিকদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬সি, ৬৬ডি ও ৪৩ ধারা-সহ বিএনএস-এর একাধিক ধারা এবং টেলিকমিউনিকেশন আইনের ৪২(৩) ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তিলজলা থানার পুলিশ। এই ভুয়ো সিম কারবারের সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা চক্র যুক্ত রয়েছে কি না। পাশাপাশি, এর সঙ্গে কোনও পাকিস্তানি বা আইএসআই-যোগ রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বর্তমান তিলজলা মামলার সঙ্গে পাকিস্তানি কোনও সংযোগের প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
এর আগে রাজ্যে ভুয়ো ও প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিম কার্ডের ঘটনায় পাকিস্তানি আইএসআই-যোগের অভিযোগ সামনে এসেছিল। ঘটনার সূত্রপাত পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থেকে। গত মে মাসে ক্ষীরাই পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শেখ মুরসালিন এবং সুরচকের বাসিন্দা গৌতম খাঁড়াকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় একাধিক মোবাইল ফোন এবং বিপুল সংখ্যক ‘প্রি-অ্যাক্টিভেটেড’ সিম কার্ড। পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ওঠে দু’জনের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।গোয়েন্দাদের সূত্রে খবর, মুরসালিন একাধিকবার থাইল্যান্ডে গিয়েছিল। কম্বোডিয়াতেও তার যাতায়াত ছিল। এই সফরের খরচ পাকিস্তানি এজেন্টরা বহন করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের দাবি, গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে পিংলায় সক্রিয় ছিল এই চক্র। সেই সময়ের মধ্যে প্রায় ৪০০টি সিম কার্ড সক্রিয় করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান গোয়েন্দাদের। গৌতম ও মুরসালিন কয়েক বছর ধরে এলাকায় ঘুরে ঘুরে সিম কার্ড বিক্রি করতেন। মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই তাঁদের ব্যবসা বেশি ছিল বলে এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে। পিংলার ঘটনার তদন্ত চলার মধ্যেই মুর্শিদাবাদ এবং কোচবিহারেও একই ধরনের সিম কার্ড চক্রের হদিস পেয়েছে এসটিএই। সেই পুরনো তদন্তের সূত্রগুলিও বর্তমান মামলার ক্ষেত্রে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর। তবে তিলজলার ঘটনায় ওই চক্রের সঙ্গে কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।