আজকাল ওয়েবডেস্ক: শালুকের পাতায় ভর করে জলে ভেসে থাকা ওয়াটার লিলি অ্যাডভেঞ্চার! আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হলেও এমন চোখধাঁধানো দৃশ্য এখন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে হাওড়ার আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ভারতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে (বোটানিক্যাল গার্ডেন)। এই ধরনের পাতায় কেবল শিশুদের বসিয়ে ভেসে থাকতে দেখা গেলেও, এবার বিশেষ উপায়ে, ৮০ থেকে ৮৫ কেজি ওজনের মানুষ নিয়েও অনায়াসে জলে ভাসছে দানবীয় আকারের এই পাতা। ভারতের এমন ঘটনা এই প্রথম।
বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর ড. কণাদ দাসের উপস্থিতিতে ‘জায়ান্ট ওয়াটার লিলি’র পাতায় ভেসে থাকার এই বিশেষ অ্যাডভেঞ্চারমূলক উদ্যোগের সূচনা হয়। গত কয়েক দিনে উদ্যানের বিশেষজ্ঞ কর্মীদের পাশাপাশি বহু সাধারণ দর্শনার্থীও ‘ভিক্টোরিয়া অ্যামাজোনিকা’ নামের এই শালুক পাতায় বসে ভাসার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে এই বোটানিক্যাল গার্ডেন। আমাজনের জঙ্গল থেকে নিয়ে আসা এই দৈত্যাকার শালুক আগে উদ্যানের একটিমাত্র জলাশয়ে সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের বিধ্বংসী ‘আমফান’ ঘূর্ণিঝড়ে উদ্ভিদটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর এর সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করা এবং পর্যটকদের সামনে সহজ প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে উদ্যানের বিভিন্ন জলাশয়ে এটি নতুন করে রোপণ ও লালনপালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উদ্যানের গবেষক ড. আর. সর্বানন জানান, উদ্যানটিতে দেশ-বিদেশের নানা বিরল জলজ উদ্ভিদ থাকলেও জায়ান্ট ওয়াটার লিলিকে ঘিরে মানুষের উৎসাহ সর্বদা তুঙ্গে। এই জলজ উদ্ভিদের গোলাপি রঙের ফুলটি পাতার তুলনায় বেশ ছোট হয়। সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল এতে কেবল শিশুদেরই ভাসিয়ে রাখা সম্ভব, কিন্তু বাস্তবে পূর্ণবয়স্ক মানুষকেও যে এই পাতা ধারণ করতে পারে, তা এখন উদ্যানের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
উদ্ভিদটির যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে উদ্যান কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সতর্ক। পাতা যাতে ভেঙে বা ছিঁড়ে না যায়, সেজন্য পাতার উপরে ও নীচে বিশেষ ভাসমান উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। সেই উপকরণের মাধ্যমে আরও বেশি ভার বহন ক্ষমতা অর্জন করেছে এই পাতা। সেই উপায় অবলম্বন করেই পূর্ণবয়স্ক মানুষকেও পাতার উপর তুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।