আজকাল ওয়েবডেস্ক: অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি, নবমীর আরতি, দশমীর সিঁদুর খেলা, দধিকর্মা ও নিরঞ্জনের মতো দুর্গাপুজোর বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের পরম্পরা ধীরে ধীরে বদলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভার অন্তর্গত কেষ্টপুরে বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারির আয়োজিত গণেশ পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই বাংলাতে ধীরে ধীরে আমাদের পরম্পরা পাল্টে দেওয়া হয়েছিল।” তাঁর অভিযোগ, অতীতে পিতৃপক্ষের সময় দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এবার দুর্গাপুজোর সমন্বয় বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে পুজোর উদ্বোধন হবে মাতৃপক্ষ বা দেবীপক্ষের সময়, মহালয়ার দিন থেকে।
মহাষ্টমীর দিন মদ বিক্রি বন্ধ রাখার কথাও বলেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “আগে মাকে পুষ্পাঞ্জলি দেব আমরা। ওটাই মহাষ্টমী।” সনাতনী পরম্পরা ফিরিয়ে আনতে সকলকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের ধর্ম, সংস্কার, ঐতিহ্য ও পরম্পরা রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী । তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে ভাষা, জাতি ও উৎসবের ভিত্তিতে বাঙালি ও সনাতনীদের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা হয়েছে।
গণেশ পুজো নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, একসময় গণেশ পুজোকে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হলেও গণপতি বাপ্পা গোটা বিশ্বের সনাতনীদের দেবতা। একইভাবে দুর্গাপুজোকেও শুধু কলকাতার উৎসব হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন তিনি। লখনউ, পাটনা ও পুণের মতো শহরে দুর্গাপুজোর আয়োজনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ছটপুজো নিয়েও একই বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তাঁর দাবি, ছটপুজোকে কোনও নির্দিষ্ট ভাষাভাষী বা সম্প্রদায়ের উৎসব হিসেবে দেখার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, গত দু’বছরে তিনি দেখেছেন বাংলার বহু পরিবারেও মহিলারা ব্রত পালন করছেন এবং সূর্যদেবের উপাসনা করছেন।
ভাষা ও পরিচয়ের ভিত্তিতে তৈরি ‘প্রাচীর’ ভেঙে দেওয়ার দাবি করে শুভেন্দু বলেন, “তুমি হিন্দিভাষী, তুমি গুজরাটি, তুমি বাঙালি, তুমি মারওয়াড়ি—এই যে প্রাচীরটা হয়েছিল, আমরা ২০২৬-এ এই প্রাচীরটা ভেঙে দিয়েছি।”
তিনি বলেন, “At the end of the day, we all are Hindustani।” একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে ‘বাঙালি হিন্দু হোমল্যান্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে তা রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারির প্রশংসাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিধায়কের নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা পূরণ করা হবে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।