• মর্নিং ওয়াকে বেরিয়ে খুন জেলা পরিষদ সদস্যের স্বামী, এলাকাবাসীর বিক্ষোভে রক্তাক্ত পুলিশ সুপার-সহ ২
    এই সময় | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • মর্নিং ওয়াকে বেরিয়ে খুন জেলা পরিষদ সদস্যের স্বামী। মৃতের নাম বৈদ্যনাথ মাহাতো। শনিবার সকালে বিহারের সীতামঢ়ী জেলার দুমরা থানা এলাকার ঘটনা। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পর পর আট রাউন্ড গুলি ছোড়ে। যার জেরে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন বৈদ্যনাথ। পরে মৃত্যু হয় তাঁর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে, ক্ষুব্ধ জনতা তাঁদের উপর ইট-পাথর ছুড়তে থাকে। উন্মত্ত জনতার হামলায় গুরুতর জখম জেলা পুলিশ সুপার (SP) অমিত রঞ্জন এবং ট্র্যাফিক থানার ইনস্পেক্টর প্রশান্ত কুমার। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের বড় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, মিশরাউলিয়া পঞ্চায়েতের কেথারিয়া রামপট্টি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। জেলা পরিষদে ১৩ নম্বর এলাকার সদস্য খুশদিল দেবীর স্বামী বৈদ্যনাথ মাহাতো প্রতিদিনের মতো মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছিলেন। মাঝ রাস্তায় চার আততায়ী তাঁকে ঘিরে ধরে। দুষ্কৃতীরা দু'টি মোটরবাইকে নিয়ে এসেছিলেন বলে সূত্রের খবর। অভিযোগ, কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীরা বৈদ্যনাথকে লক্ষ্য করে আট রাউন্ড গুলি ছুড়ে চম্পট দেয়।

    খবর জানাজানি হতেই ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা দুমরা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেই সময়ে পুলিশের উপরেও নির্বিচারে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। হামলায় গুরুতর চোট পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পুলিশ সুপার অমিত রঞ্জন ও ট্র্যাফিক ইনস্পেক্টর প্রশান্ত কুমার।

    ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, ২৮ অগস্ট গভীর রাতে বৈদ্যনাথের বাড়িতে সামনে গুলি চালিয়েছিল একদল দুষ্কৃতী। সেই ঘটনায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু তা সত্বেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে ৮ সেপ্টেম্বর গ্রামবাসীরা দুমরা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন। ঠিক তার কয়েক দিনের মাথায় খুন হন বৈদ্যনাথ।

    সূত্রের খবর, কর্তব্যে অবহেলা এবং আইনশৃঙ্খলার রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার দায়ে দুমরা থানার আইসি মুকেশ কুমার এবং তদন্তকারী আধিকারিক আদিত্য কুমারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সদর এসডিপিও-২ আশিস আনন্দকে। দুই দিনের মধ্যে তাঁকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

    ১. বৈদ্যনাথ মাহাতো কে ছিলেন?

    বৈদ্যনাথ মাহাতো ছিলেন সীতামঢ়ী জেলা পরিষদের ১৩ নম্বর এলাকার সদস্য খুশদিল দেবীর স্বামী।

    ২. কোথায় বৈদ্যনাথ মাহাতোকে খুন করা হয়?

    বিহারের সীতামঢ়ী জেলার দুমরা থানা এলাকার মিশরাউলিয়া পঞ্চায়েতের কেথারিয়া রামপট্টি গ্রামে তাঁকে খুন করা হয়।

    ৩. কীভাবে খুন করা হয় বৈদ্যনাথকে?

    অভিযোগ, মর্নিং ওয়াকে বেরোনোর সময় চার আততায়ী তাঁকে ঘিরে ধরে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পর পর আট রাউন্ড গুলি চালায়।

    ৪. আততায়ীরা কীসে করে এসেছিল?

    সূত্রের খবর, চার দুষ্কৃতী দু’টি মোটরবাইকে করে এসেছিল।

    ৫. ঘটনার পর পুলিশের উপর হামলা কেন হয়?

    বৈদ্যনাথের খুনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের উপর ইট-পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।

  • Link to this news (এই সময়)