বিজেপি যাচ্ছেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী? এই প্রশ্নের উত্তর এবার মিলেছে। তাঁর জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি। যদিও শুধু কৃষ্ণেন্দু নন, কংগ্রেস এবং সিপিএমের ক্ষেত্রেও একই বার্তা দিয়েছেন তিনি। ফলে প্রশ্নটা এখন শুধু একজন নেতাকে নিয়ে নয়। প্রশ্ন উঠছে, বিরোধী শিবিরের আর কোন কোন পরিচিত মুখকে বিজেপি নিজেদের ঘরে ঢুকতে দিতে চাইছে না?
আসলে মালদার ইংলিশবাজারে তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর পুরসভা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের পর থেকেই শুরু হয়েছিল জোর জল্পনা। এরপর তিনি কোন রাজনৈতিক শিবিরে যাবেন, আদৌ দল বদল করবেন কি না—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় কানাঘুষো। আর সেই জল্পনার মধ্যেই সরাসরি মুখ খুললেন ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি। তাঁর বক্তব্য একেবারে স্পষ্ট, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ। শুধু কৃষ্ণেন্দুর নাম নয়, অম্লান ভাদুড়ির বক্তব্যে উঠে এসেছে আরও বড় ইঙ্গিত। তাঁর দাবি, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর পাশাপাশি কংগ্রেস, সিপিএম-সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেও বিজেপির দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখন আর যে কেউ চাইলেই বিজেপির শিবিরে এসে জায়গা করে নিতে পারবেন—এমনটা নয়, অন্তত অম্লান ভাদুড়ির বক্তব্যে তেমনই বার্তা মিলেছে।
আর এখানেই তৈরি হয়েছে আসল রহস্য। কারণ রাজনীতিতে দলবদল নতুন কোনও ঘটনা নয়। বিশেষ করে ক্ষমতার রাজনীতিতে যখন একের পর এক সমীকরণ বদলায়, তখন কোন নেতা কখন কোন শিবিরে যাবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলতেই থাকে। কিন্তু একজন সম্ভাব্য দলবদলকারীকে নিয়ে প্রকাশ্যে ‘দরজা বন্ধ’ ঘোষণা—তা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে বিজেপির এই অবস্থানকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। তাঁর পাল্টা বক্তব্যও যথেষ্ট স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, তিনি কারও দরজায় গিয়ে কড়া নাড়েননি। ফলে তাঁর জন্য দরজা খোলা না বন্ধ, সেই প্রশ্নই বা উঠছে কোথা থেকে? কোনও রাজনৈতিক দল তাঁর কাছে প্রস্তাব নিয়ে এলে, কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।এই বক্তব্যের পরেই আরও ঘন হয়েছে জল্পনা। তাহলে কি কৃষ্ণেন্দু এখনও কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেননি? নাকি তাঁর সামনে অন্য কোনও রাজনৈতিক পথও খোলা রয়েছে? তিনি অবশ্য এটুকু পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, রাজনীতির ময়দান থেকে সরে যাচ্ছেন না। অর্থাৎ চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর লড়াই থামছে না। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় বিরোধী রাজনীতির প্রতিটি পদক্ষেপই এখন আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। কে শাসকদলের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন, কে শিবির বদল করবেন, আর কাকে নিজেদের দলে নেওয়া হবে না—এই প্রশ্নগুলিই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে। তাই কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীকে ঘিরে বিজেপির ‘দরজা বন্ধ’ মন্তব্য শুধু একজন নেতাকে ঘিরে বিতর্ক নয়। এর মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা। প্রশ্ন উঠছে, কৃষ্ণেন্দুর পর আর কার নাম আসবে? কোন কোন বিরোধী মুখকে বিজেপি আর নিজেদের ঘরে জায়গা দিতে চাইছে না? (রিপোর্টার- মিলটন পাল)