• আত্মসমর্পণ করতে চলেছে মাওবাদী দম্পতি, মাথার দাম ছিল ২৫ লক্ষ টাকা
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • লড়াই ছিল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তাই তারা বেছে নিয়েছিল রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পথ। দীর্ঘ দু’দশকের লড়াই চলেছে। রাষ্ট্রের মধ্যে সাম্যবাদ গড়ে তুলতে এই পথ বেছে নিয়েছিল তারা। হ্যাঁ, পথটা ছিল মাওবাদ। তারা হয়ে উঠেছিল মাওবাদী। কিন্তু এবার সেই পথ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে আত্মসমর্পণ করতে চলেছে শীর্ষ মাওবাদী দম্পতি রামপ্রসাদ মাণ্ডি এবং মিতা ওরফে নয়নতারা। যাদের দাম রাখা হয়েছিল ২৫ লক্ষ টাকা। দ্রুত তারা আত্মসমর্পণ করবে বলে জানা গিয়েছে। ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার পটমদা থানার ঝুঁঝকা গ্রামের বাসিন্দা তথা সিপিআই (মাওবাদী) বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য রামপ্রসাদ মাণ্ডি। এবার একে-৪৭ ত্যাগ করে মূলস্রোতে ফিরতে চলেছে বলে সূত্রের খবর।

    রামপ্রসাদ মাণ্ডির স্ত্রী মিতা শাহু ওরফে নয়নতারা। তার বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া গ্রামে। এখন সিপিআই(মাওবাদী) পূর্ব সিংভূম এরিয়া কমিটির সদস্য। তার মাথার দাম ছিল ১০ লাখ টাকা। মিতার ব্যবহার করত ইনসাস রাইফেল। এখন সেসব ছেড়ে সুন্দর ও শান্তির সংসার জীবনযাপন করতে চায় তারা। এই বিষয়ে রামপ্রসাদ মাণ্ডির বাবা সনাতন মাণ্ডি সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘অনেক বছর ধরে ছেলেকে খুঁজছি। একটাই আশা করেছিলাম, যাতে মৃত্যুর আগে ছেলেকে সমাজের মূলস্রোতে দেখতে পারি। এবার পুলিশ এসে জানিয়েছে ছেলে ও বউমা ফিরেছে। এই খবর পেয়ে আমরা গোটা পরিবার খুশি।’

    পুলিশ সূত্রে খবর, স্কুলজীবনে মাওবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে ওঠে অভাবী ঘরের ছেলে রামপ্রসাদ। ২০০৬ সালে সরাসরি সংগঠনে যোগ দেয়। তখন পুরুলিয়ার বান্দোয়ান লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার পটমদা, এমজিএম, গালুডি, বড়াম এলাকায় সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব ছিল বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য রঞ্জিত পালের। তার হাত ধরেই রামপ্রসাদ মাণ্ডি মাওবাদী ক্যাডার হয়ে ওঠে। আর ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনে মাতঙ্গিনী মহিলা সমিতির সদস্য হিসেবে যোগ দেয় মিতা। সেখান থেকে সরাসরি সশস্ত্র বিপ্লবে যোগ। পরে ডামপাড়া স্কোয়াড গঠন করা হয়। তার কমান্ডার করা হয় এই মিতাকে।

    এখানেই শেষ নয়, লালগড় আন্দোলনে এই দম্পতি ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি স্কোয়াডে মিলিত হয়। কিষেনজির কার্যত ডান হাত ছিল রামপ্রসাদ মাণ্ডি। কিষেণজির নির্দেশেই সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছে সে। লালগড় আন্দোলনে সাঁকরাইল থানায় হামলা, শিলদা ইএফআর ক্যাম্পে হামলা, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কনভয়ে হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিল রামপ্রসাদ। আর মিতা পূর্ব সিংভূম জোনাল কমিটির সদস্য ছিল। পরে পরিচয় হয় মিতা ও রামপ্রসাদের। ২০১০ সালে তাদের বিয়ে হয়েছিল। এবার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২০ বছর লড়াই শেষে রামপ্রসাদ স্ত্রীকে নিয়ে আত্মসমর্পণ করতে চলেছে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)