• ব্রিকসে টানটান কূটনীতি! জিনপিংকে পাশে নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে বদলের ডাক মোদির, বার্তা নেপাল নিয়েও
    প্রতিদিন | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ব্রিকসের মঞ্চ থেকেই ‘ক্ষমতার পিরামিড’ বদলের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দাবি করলেন, ‘গ্লোবাল সাউথ’-কে দীর্ঘকাল ধরে ‘পিছনের সারিতে’ বসিয়ে রাখা হয়েছে। এবার বিশ্ব শাসন ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজন। ভারতকে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি নেপালের বিপর্যয় নিয়েও চিনকে বার্তা দিতে দেখা গেল তাঁকে। যে চিন একসময় রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের বিরোধিতা করেছে, সেই চিনের প্রেসিডেন্টকে পাশে নিয়েই এদিন মোদির মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, নিরাপত্তা পরিষদে ঠাঁই পেলে দিল্লির হাতে আসবে ভেটো ক্ষমতা। সেক্ষেত্রে চিনের সিদ্ধান্তের উপরেও ‘ছড়ি ঘোরানো’র ক্ষমতা থাকবে নয়াদিল্লির।

    এদিন মোদি বলেন, ”গ্লোবাল সাউথ বৈশ্বিক সংস্থাগুলির প্রথম সারিতে থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পিছনের সারিতেই থেকে যায়। আমাদের অবশ্যই এই ‘ক্ষমতার পিরামিড’কে এমন একটি ‘অংশীদারিত্বের মঞ্চে’ রূপান্তরিত করতে হবে, যেখানে প্রতিটি জাতির কথা বলার সুযোগ থাকবে, প্রতিটি সদস্যের স্বার্থ থাকবে এবং প্রতিটি প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে মানবতার অগ্রগতি। প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমি বলতে চাই যে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্বিত করা যাবে না।” তিনি দাবি করলেন, ভারতকে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য করতে হবে।

    সেই সঙ্গেই তাঁকে বলতে শোনা যায়, ”আমরা একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করি এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যাই। আমরা কারও বিপক্ষে নই, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নীতিতে আমরা বিশ্বাসী। এখন সময় এসেছে ব্রিকসের মধ্যে আমাদের ঐক্য ও ঐকমত্যকে বিশ্বমঞ্চে দৃশ্যমান করে তোলার।” 

    এদিন মোদির কথা উঠে আসে নেপালের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও। যদিও সরাসরি তিনি কিছু বলেননি। কিন্তু তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ”বিপর্যয়ের পরিস্থিতিতে পরস্পরকে খবর দেওয়া দরকার। এটা এআই, সাইবার স্পেসের যুগ।” নেপালের আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে এভাবেই নাম না করে চিনকে বিঁধছেন মোদি, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)