তৃণমূলের প্রতীক কার, কালীঘাট ও ঋত শিবিরের বক্তব্য শুনে কোন সিদ্ধান্তের পথে কমিশন?
প্রতিদিন | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তৃণমূলের প্রতীক কার? এই কঠিন প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর সম্ভবত নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনের আগে পাওয়া যাবে না। উপনির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কমিশন সূত্র বলছে, আপাতত ফ্রিজ করে দেওয়া হতে পারে ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক।
তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে যে আইনি টানাপোড়েন চলছে, সেই টানাপোড়েন এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে। শনিবার দুই শিবিরকেই নিজেদের যুক্তি পেশের জন্য তলব করেছিল নির্বাচন কমিশন। প্রথমে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’, তারপর ‘কালীঘাট তৃণমূল।’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আসল তৃণমূলের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পাঁচজন। বৈঠক শেষে ঋত শিবির দাবি করেন, “তৃণমূল কারও বাবার দল নয়।” বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত দাবি করেন, প্রতীকের দখল থাকবে তাঁর হাতেই। আবার একই দাবি কালীঘাট তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। তিনি অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, কমিশন অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দিতে পারে। যদি সেই নির্দেশ না দেয়, তাহলে কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচন জোড়াফুল প্রতীকেই লড়বে।
এখন প্রশ্ন হল, কমিশন কী সিদ্ধান্ত নিতে পারে? এই মুহূর্তে চার রকম সম্ভাবনার কথা বলছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রথম সম্ভাবনা, প্রতীক এবং দলের নাম দেওয়া হল কালীঘাট তৃণমূলকে। সেক্ষেত্রে উপনির্বাচন এবং আগামী দিনের নির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীকে লড়বেন মমতার প্রার্থীরা। দ্বিতীয় সম্ভাবনা, প্রতীক দেওয়া হল ঋত শিবিরকে। সেক্ষেত্রে মমতা তৃণমূলকে অন্য প্রতীক খুঁজে উপনির্বাচনে লড়তে হবে। সূত্রের দাবি, কালীঘাট তৃণমূল ইতিমধ্যেই বিকল্প প্রতীক হিসাবে অন্য একটি ফুলের কথা ভেবে রেখেছে। এই দুই ক্ষেত্রেই যে শিবির প্রতীক পাবে না, তারা সুপ্রিম কোর্টে যাবে। অর্থাৎ প্রতীক ভবিষ্যৎ ঝুলে যাবে। তৃতীয় বিকল্প হচ্ছে, কমিশন এখনই কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে ‘স্টেটাস কো’ অর্থাৎ ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার নির্দেশ দিল। দুই শিবিরকে আরও নথি জমা দিতে বলা হতে পারে। সেক্ষেত্রেও লাভ মমতা শিবিরের। তাঁরাই জোড়াফুল প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়তে পারবে।
তবে চতুর্থ এবং সবচেয়ে উজ্জ্বল যে সম্ভাবনা সেটা হল অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীকটিই ফ্রিজ করে দেওয়া। সেক্ষেত্রে কোনও শিবিরই প্রতীক পাবে না। দুই শিবিরকেই আলাদা দল গড়ে বা ‘নির্দল’ হিসাবে লড়বে। দু’তরফের শুনানি চলবে। দীর্ঘ শুনানির পর একেবারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। কমিশন সূত্র বলছে, এই সিদ্ধান্তই সবচেয়ে প্রবল।