অন্তর্বাস খুলিয়ে গোপনাঙ্গে হাত! তল্লাশির নামে হাওড়ায় শিক্ষিকাদের ‘হেনস্তা’
প্রতিদিন | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশনের পরীক্ষায় চলছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই পরীক্ষা ছিল। আর সেই পরীক্ষা ঘিরেই উঠল বিস্ফোরক অভিযোগ। শিক্ষিকাদের পোশাক খুলে তল্লাশির অভিযোগ উঠল সাঁকরাইল গার্লস হাইস্কুলে। মহিলাদের দেহ তল্লাশির নামে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। ওই স্কুলে পরীক্ষা দিতে আসা বহু শিক্ষিকা সাঁকরাইল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মহিলা পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর আগে কিছু মহিলা বাউন্সার রীতিমতো তাঁদের পোশাক খুলে তল্লাশি চালিয়েছে। পরীক্ষায় টোকাটুকি রুখতে এই তল্লাশি চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, তাঁরা পরীক্ষার দিনগুলিতে পরীক্ষা শুরুর আগে পোশাক খুলে তল্লাশিতে আপত্তি জানালেও সে কথা কানে তোলা হয়নি। একটি সরকারি স্কুলের ভিতর বেসরকারি সংস্থার বাউন্সারদের কাজে লাগিয়ে এইভাবে তল্লাশি চালানো হয়। মহিলাদের অভিযোগ, শুধু পোশাক নয়। রীতিমতো তাঁদের অন্তর্বাসও খোলা হয়। তাদের গোপনাঙ্গে হাত দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে অন্তর্বাস খুলিয়ে তা ভিডিও করা হয় বলেও অভিযোগ তোলেন এক মহিলা পরীক্ষার্থী।
গত কয়েকদিন ধরে এইভাবে পরীক্ষা চলাকালীন তল্লাশিতে বিরক্ত হন মহিলা পরীক্ষার্থীরা। শুক্রবার রাতে সাঁকরাইল থানায় এফআইআর করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ কর্তারা ওই স্কুলে ছুটে যান। পরীক্ষার্থী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান তথা জেলা প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শক দিলীপ কুমার সাহা এই প্রসঙ্গে জানান, এই বিষয়ে তাঁরা খবর পেয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষাদপ্তর থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু মহিলারাই নন, পুরুষ পরীক্ষার্থীদেরও পোশাক খুলে তল্লাশি চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই প্রসঙ্গে এক পুরুষ পরীক্ষার্থী জানান, তাঁদেরও রীতিমতো জামা-প্যান্ট খুলে তল্লাশি চালানো হয়।