• ‘হিন্দু বলে আমার মাকেও পালিয়ে আসতে হয়েছিল’, চিন্ময় প্রভুর চোখের জল দেখে অতীত স্মরণ শুভেন্দুর
    প্রতিদিন | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বিনা বিচারে ওপার বাংলায় প্রায় ২ বছর ধরে জেলবন্দি চিন্ময় প্রভু নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি মায়ের মৃত্যুতে প্যারোলে ছাড়া পাওয়া হিন্দু সন্ন্যাসীর চোখের জল কাঁদিয়েছে আরও বহু মানুষকে। মায়ের শেষ ইচ্ছানুসারে ছেলেকে শেষ দেখাটুকুও দেখতে পাননি। তাই সন্ধ্যারানি ধরের মৃত্যুতে যখন শেষপর্যন্ত চিন্ময় প্রভুকে প্যারোলে মুক্ত করা হয়, বাংলাদেশ জেল কর্তৃপক্ষের সেই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সনাতন সমাজের অন্যতম প্রতিনিধি চিন্ময় প্রভুর পাশে দাঁড়িয়ে নিজের যন্ত্রণাকাতর অতীত স্মরণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বললেন বাংলাদেশ থেকে এক কাপড়ে তাঁর মায়ের পালিয়ে আসার কথা।

    শনিবার কেষ্টপুরে গণেশ পুজোর উদ্বোধনে বাঙালির হিন্দুদের সুরক্ষার নেপথ্যে ফের ‘ভারতকেশরী’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও প্রণবানন্দজির ভূমিকার কথা উল্লেখ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবাংলায় গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে। বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড তৈরি করায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও প্রণবানন্দের ভূমিকার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পরম্পরা ফিরিয়ে আনতে চাই আমরা। আমরা অবিভক্ত বাংলার মানুষ। বিভীষিকাময় দেশভাগ ক্ষতি করেছে। চিন্ময় প্রভুর চোখের জল সনাতনীদের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে। ভাবছিলাম, শ্যামাপ্রসাদ কিংবা প্রণবানন্দের মাধ্যমে যদি ভারতভুক্তি না পেতাম, তবে আমাদের অবস্থাও চিন্ময় প্রভুর মতো হত।”

    এরপরই ব্যক্তিগত জীবনের বেদনার কথা শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী গলায়। বললেন, “আমার নিজের জীবনেও যন্ত্রণা রয়েছে। হিন্দু বলে আমার মাকেও তাঁর বাবার হাত ধরে এক কাপড়ে পালিয়ে আসতে হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মা গায়ত্রী দেবী আদতে ওপার বাংলার বাসিন্দা। দেশভাগের সময়ে মৌলবাদীদের অত্যাচারে নিজের পরিবারকে নিয়ে এদেশে পালিয়ে আসতে হয়েছিল তাঁর বাবাকে। আজ বদলের বাংলাদেশেও সংখ্যালঘুরা যে একইভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে চলেছেন, চিন্ময় প্রভুর মায়ের মৃত্যুর মতো করুণ পরিস্থিতি তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। সেই যন্ত্রণার কথাই তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তবে চিন্ময় প্রভুকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এমন দরদী বক্তব্য এবং নিজের মায়ের জীবনের সঙ্গে তার তুলনা নিয়ে পালটা ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলেছে বামপন্থীরা। তাঁরা পালটা জেলবন্দি অবস্থায় মৃত সমাজকর্মী স্ট্যান স্বামী এবং বিনা বিচারে ৬ বছর ধরে জেলবন্দি বামপন্থী ছাত্রনেতা উমর খালিদের প্রসঙ্গ তুলেছেন। সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তর বক্তব্য, ‘‘আমরা বামপন্থীরা সবসময়েই দেশের সীমানার ঊর্ধ্বে গিয়ে সংখ্যালঘুদের অধিকারের পক্ষে এবং সংখ্যাগুরুর আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, সেটা বাংলাদেশ, ভারত বা প্যালেস্টাইন সর্বত্র।কিন্তু উনি (শুভেন্দু অধিকারী) কেবল হিন্দুদের কথাই বলছেন।’’  
  • Link to this news (প্রতিদিন)