তারাতলাকাণ্ডে ধৃত কলকাতা পুরসভার সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
প্রতিদিন | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই নির্মীয়মাণ গুদামের অনুমোদন দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। ঘটনার তদন্তে নামে লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। সেই তদন্তে এবার কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার গ্রেপ্তার। ধৃতের নাম আমিনুর শেখ।
গত ২৪ জুন তারাতলায় গুদামের একটি নির্মীয়মাণ কাঠামো ভেঙে পড়ে। নিচে চাপা পড়ে প্রাণহানি হয়েছিল ১৬ জনের। দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমেছিল সেনা, এনডিআরএফ, কলকাতা পুলিশের টিম। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন সেদিনই। তৃণমূল আমলে ওই নির্মীয়মাণ গুদামের নকশার অনুমোদন করেছিল কলকাতা পুরসভা। সেসময়ের কলকাতার মেয়র অনুমোদনপত্রে সই করেছিলেন বলে খবর।
কলকাতা পুরসভার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে। সেই কথা জানিয়েছিল কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী টিম। গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কালীচরণ সেসময় কলকাতা পুরসভার মেয়রের অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি পদে ছিলেন। গুদামের পরিকাঠামোগত নকশা খতিয়ে দেখেছিলেন তদন্তকারীরা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের অনুমোদিত সেই নকশা দেওয়া হয়েছিল। মূল নকশা মেনে ওই নির্মাণ হয়েছিল কি? সেই বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। গত দেড় বছর ধরে প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট এলাকার উপরণ ওই নির্মাণকাজ হচ্ছিল।
ওই নির্মাণ ও নকশা তৈরির ক্ষেত্রে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ তদন্তে কালীচরণ ছাড়া আরও কয়েকজনকে পাকড়াও করেছিল। সেখানে শ্রমিক সরবরাহের কাজে যুক্ত থাকা দু’জনকে পুলিশ ধরেছিল। এছাড়াও গুদামের এক সুপারভাইজারকেও পাকড়াও করা হয়েছিল। এবার শুক্রবার রাতে আমিনুর শেখকে গ্রেপ্তার করা হল। বাঁশদ্রোণী থানা এলাকায় গড়িয়ার এক আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের সিট। তারাতলায় পুরসভার ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের ইনচার্জ ছিলেন আমিনুর। ধৃতকে জেরা করে আরও তথ্য পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা।