সামনেই দুর্গাপুজো। কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। তার পরেই দীপাবলিতে মেতে উঠবে গোটা দেশ। তার গায়ে গায়েই ছটপুজো। পুজোর এই মরশুমে দেশের নানা প্রান্ত থেকে বাড়ি ফিরবেন অনেকে। এই সময়ে যাত্রী ভিড় সামলাতে একগুচ্ছ স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা ও আসানসোল থেকে রক্সৌল, পাটনা, সীতামাঢ়ি, গোরক্ষপুর, মধুবনী, দিঘার মতো বিভিন্ন গন্তব্যে মোট ১০টি পুজো স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে। অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নির্দিষ্ট দিনে চলবে ট্রেনগুলি।
আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে চালু হবে হাওড়া–রক্সৌল পুজো স্পেশাল। হাওড়া থেকে ছাড়বে প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১১টায়। রক্সৌল পৌঁছবে পরের দিন বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটে। আবার শুক্রবার বিকেলে ৫টে ৪৫ মিনিটে রক্সৌল থেকে ছেড়ে পরের দিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে হাওড়ায় পৌঁছবে। এই ট্রেন চলবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত।
আর একটি হাওড়া-রক্সৌল স্পেশাল শনিবার রাত ১১টায় হাওড়া থেকে ছাড়বে। পরের দিন বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে রক্সৌল পৌঁছবে। রবিবার বিকেল ৫টে ৪৫ মিনিটে রক্সৌল থেকে ছেড়ে পরের দিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে হাওড়ায় পৌঁছবে। মাঝে ব্যান্ডেল, বর্ধমান, দুর্গাপুর, আসানসোল, চিত্তরঞ্জন, মধুপুর ও জসিডি থামবে ট্রেনটি। ১৭ অক্টোবর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই ট্রেন।
প্রতি মঙ্গলবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে একই দিন বিকেল ৩টেয় পাটনা পৌঁছবে। ফিরতি পথে পাটনা–শিয়ালদহ স্পেশাল প্রতি মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে পরের দিন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে শিয়ালদহ পৌঁছবে। ১৩ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই ট্রেন।
১৬ অক্টোবর থেকে চালু হচ্ছে শিয়ালদহ–সীতামাঢ়ি পুজো স্পেশাল। ট্রেনটি শিয়ালদহ থেকে ছাড়বে প্রতি শুক্রবার। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে পরের দিন বিকেল ৩টে ৩০ মিনিটে সীতামাঢ়ি পৌঁছবে। ফিরতি পথে প্রতি শনিবার বিকেল ৫টায় সীতামাঢ়ি থেকে ছেড়ে শিয়ালদহে পৌঁছবে পরের দিন দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে।
গোরক্ষপুরের জন্যও রয়েছে বিশেষ ট্রেন। শিয়ালদহ–গোরক্ষপুর পুজো স্পেশাল ছাড়বে প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে পরের দিন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে গোরক্ষপুর পৌঁছবে। ফিরতি পথে প্রতি বুধবার ও শুক্রবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে ছেড়ে পরের দিন বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে শিয়ালদহ পৌঁছবে। ১৩ অক্টোবর থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই ট্রেন।
কলকাতা–মধুবনী রুটে চলবে দু’জোড়া ট্রেন। কলকাতা–মধুবনী স্পেশাল প্রতি মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে কলকাতা থেকে ছাড়বে। পরের দিন বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে মধুবনী পৌঁছবে। আবার প্রতি বুধবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে মধুবনী থেকে ছেড়ে পরের দিন দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে কলকাতায় পৌঁছবে। ১৩ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই পুজো স্পেশাল।
কলকাতা থেকে মধুবনী পর্যন্ত চালানো হবে আরও একটি স্পেশাল ট্রেন। প্রতি শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে কলকাতা থেকে ছাড়বে। ফিরতি পথে প্রতি শনিবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে মধুবনী থেকে ছেড়ে পরের দিন দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে কলকাতায় পৌঁছবে। ট্রেনটি চলবে ১৬ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত।
আসানসোল থেকেও পটনা ও গোরক্ষপুরের জন্য স্পেশাল ট্রেন চালাবে পূর্ব রেল। প্রতি রবিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে আসানসোল থেকে ছেড়ে ওই দিনই রাত ৮টা ১৫ মিনিটে পাটনা পৌঁছবে। ফিরতি পথে আবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে পাটনা থেকে ছেড়ে পরের দিন ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে আসানসোল পৌঁছবে। ট্রেন দু’টি চিত্তরঞ্জন, জামতাড়া, মধুপুর ও জসিডিতে থামবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
আসানসোল–গোরক্ষপুর পুজো স্পেশাল প্রতি শুক্রবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে আসানসোল থেকে ছাড়বে। পরের দিন গোরক্ষপুর পৌঁছবে ভোর ৩টে ৩০ মিনিটে। ফিরতি পথে প্রতি শনিবার সকাল ৬টায় গোরক্ষপুর থেকে ছেড়ে একই দিন রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে আসানসোল পৌঁছবে। ট্রেনটি চলবে ১৬ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত।
১৭ অক্টোবর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মালদা টাউন–দিঘা রুটেও চলবে একটি পুজো স্পেশাল। প্রতি শনিবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে ছেড়ে ওই দিনই রাত ১১টায় দিঘা পৌঁছবে। ফিরতি পথে প্রতি রবিবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে দিঘা থেকে ছেড়ে পরের দিন সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মালদা টাউন পৌঁছবে। মাঝে নিউ ফরাক্কা, পাকুড়, রামপুরহাট, সাঁইথিয়া, বোলপুর শান্তিনিকেতন, বর্ধমান ও ডানকুনিতে থামবে পুজো স্পেশাল।
পূর্ব রেল জানিয়েছে, এই সব স্পেশাল ট্রেনে সাধারণ দ্বিতীয় শ্রেণি, স্লিপার ও এসি কামরা থাকবে। তবে ট্রেনগুলির টিকিট বুকিং কবে থেকে শুরু হবে, সেই তারিখ এখনও জানানো হয়নি। পরে বুকিংয়ের তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে রেল।