চাকরির নামে কয়েক লক্ষ টাকার প্রতারণা, অভিযুক্ত দুই বিজেপি নেতা
আজ তক | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যুবকের কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ স্থানীয় দুই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে কোচবিহারের শীতলকুচিতে।
শীতলকুচির খারিজা ধাপেরচাত্রা গ্রামের বাসিন্দা সত্যেন বর্মনের অভিযোগ, 2024 সালে রাণীর দিঘী এলাকার কমল কান্তি রায় এবং পশ্চিম গোঁসাইরহাটের মনোজ কুমার রায় তাঁর বাড়িতে আসেন। অভিযোগ, তাঁরা নিজেদের স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর কথাবার্তার মাধ্যমে সত্যেনকে হাসপাতালের Group-D পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়।
সত্যেনের দাবি, দু'দিন পর অভিযুক্তরা ফের তাঁর বাড়িতে আসেন এবং মাধ্যমিক থেকে শুরু করে B.A. পাশ পর্যন্ত তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার আসল নথিপত্র নিয়ে যান। এরপর তাঁকে বলা হয়, ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দিলে মাত্র এক মাসের মধ্যেই চাকরি হয়ে যাবে।
অভিযোগ, সেই টাকা জোগাড় করতে নিজের জমি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয় সত্যেনকে। ধাপে ধাপে টাকা দেওয়ার দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, অনলাইনের মাধ্যমে মোট ৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৯৯০ টাকা দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি নগদেও ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের হাতে পৌঁছয় ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
কিন্তু টাকা দেওয়ার পর কেটে যায় এক মাস। তারপর আরও সময়। চাকরি আর হয় না। শুরু হয় যোগাযোগের চেষ্টা। অভিযোগ, চাকরির বিষয়ে জানতে এবং নিজের টাকা ফেরত চাইতে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অভিযুক্তরা এড়িয়ে যেতে থাকেন। এরপর নিজের টাকা ফেরত চাইতে তাঁদের বাড়িতে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।
সত্যেন বর্মনের দাবি, টাকা ফেরত চাইতেই তাঁকে ভয় দেখানো হয় এবং খুন করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত আর কোনও উপায় না দেখে বুধবার শীতলকুচি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগের সঙ্গে টাকা লেনদেনের ডিজিটাল প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই বিজেপি নেতা। কমল কান্তি রায়ের দাবি, সত্যেনের সঙ্গে তাঁর একটি ছোটখাটো ব্যবসা ছিল এবং সেই ব্যবসা সংক্রান্ত কিছু আর্থিক লেনদেন হয়েছিল। চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা বলেই দাবি করেছেন তিনি।
অন্যদিকে মনোজ কুমার রায়ের দাবি, তিনি দলীয় পদে থাকার কারণেই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে হেনস্থা করার চেষ্টা চলছে। তবে বিজেপি নেতৃত্বের তরফে সাফ জানানো- দুর্নীতর সঙ্গে দলের যদি কেউ জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে দল উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।