সন্ত্রাসীবিরোধী অভিযানে ফের বড় সাফল্য। জম্মু ও কাশ্মীরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে মৃত্যু হল এক জঙ্গি। মৃত জঙ্গি জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। মৃত জঙ্গির কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে অত্যাধুনিক এম-৪ রাইফেল। এই সাফল্যের পর জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের তরফে সোশাল মিডিয়ায় এক বার্তা দেওয়া হয়েছে। যেখানে লেখা হয়েছে, ‘You Can Run But You Can’t Hide!’ অর্থাৎ, ‘তুমি পালাতে পারো, কিন্তু লুকোতে পারবে না।’
নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে জানা গিয়েছে, মাস খানেক আগে ডোডা জেলার সেওজ ধার বনাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এবং সিআরপিএফের তরফে যৌথ অভিযান চালিয়েছিল সেনাবাহিনী। সেই অভিযানেই মৃত্যু হয়েছিল এই জঙ্গির। এদিন এই জঙ্গলে দেহ পড়ে থাকতে দেখে নিরাপত্তাবাহিনীকে খবর দেয় গ্রামবাসীরা। নিরাপত্তাবাহিনী গিয়ে সেই দেহ উদ্ধার করে। দেহের পাশে পড়ে ছিল M4 Carbine নামে এক স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। অপারেশনের জন্য এই আগ্নেয়াস্ত্রে বিশেষ নাইট-ভিশন টেলিস্কোপ যুক্ত থাকে। সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গিরা এই ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে নাশকতা চালায়।
সেই অভিযানের সাফল্য তুলে ধরে সোশাল মিডিয়ায় বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের তরফে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘You Can Run But You Can’t Hide!’ অর্থাৎ, ‘তুমি পালাতে পারো, তবে লুকোতে পারবে না।’ এদিকে গত কয়েক মাসে কাশ্মীর উপত্যকা ও পার্বত্য জেলাগুলোতে সন্ত্রাসবাদের শিকড় পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে কোমর বেঁধে নেমেছে নিরাপত্তাবাহিনী। নামানো হয়েছে ৪,০০০-এরও বেশি সেনা জওয়ান, প্যারা কমান্ডো ও পাহাড়ি যুদ্ধের অভিজ্ঞ জওয়ানদের। রাজৌরি, পুঞ্চ, ডোডা এবং কাঠুয়া জেলায় হেলিকপ্টার, ড্রোন ও স্নাইফার ডগ দিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মৃত জঙ্গির কাছ থেকে পাওয়া এম-৪ রাইফেল আমেরিকার তৈরি। আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনী ব্যবহার করত এটি। আমেরিকা আফগানিস্তান ছাড়ার পর এই অস্ত্র তালিবানের হাত ঘুরে পাকিস্তানি জঙ্গিদের হাতে এসেছে। যা এখন জম্মু ও কাশ্মীরে ব্যবহার করছে জঙ্গিরা। এই নিয়ে গত কয়েকদিনে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এটি দ্বিতীয় সাফল্য। এর আগে বুদগামে লস্কর জঙ্গি ইয়াসিরকে নিকেশ করেছিল পুলিশ।