রোলাহাটু পাহাড়ে দু’টি ইনসাস, ১০৩ রাউন্ড গুলি ও ছ’টি খালি ম্যাগাজিন উদ্ধারের পর মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশের পুরনো স্কোয়াডের অস্ত্রভাণ্ডার এবং গতিপথ নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক ঝাড়খণ্ড পুলিশের তথ্য বলছে, সারান্ডা জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনীর চাপ বাড়ার পর আকাশ তাঁর দলবল নিয়ে দলমা এলাকার দিকে সরে গিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছ’জন মাওবাদী থাকার কথা সামনে এসেছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ১৫ লক্ষ টাকার ইনামধারী রামপ্রসাদ মার্ডি ওরফে সচিন, ১০ লক্ষের মীতা ওরফে নয়নতারা, পাঁচ লক্ষের মঙ্গল মাহাতো, দু’লক্ষের মালতি মুর্মু এবং এক লক্ষের বুলু ওরফে গৌরী। আকাশের মাথায় এক কোটি টাকা পুরস্কার রয়েছে।
কিন্তু সেই বলয়ে বড় ভাঙন ধরেছে। ১০ সেপ্টেম্বর বাঁকুড়া জেলা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন রামপ্রসাদ, তাঁর স্ত্রী মীতা এবং বুলু ওরফে গৌরী। রামপ্রসাদ একটি একে-৪৭-ও জমা দিয়েছেন। ঝাড়খণ্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, আত্মসমর্পণের আগে এই তিনজনই আকাশের সঙ্গে দলমা এলাকায় ছিলেন। তাঁদের জেরায় আকাশের বর্তমান গতিবিধি এবং পুরনো স্কোয়াড সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। ফলে আগে চিহ্নিত ছ’জনের মধ্যে এখন আকাশ ছাড়া আরও দু’জন মাওবাদী থাকার কথা পুলিশি সূত্রে সামনে এসেছে। তাঁদের পরিচয় নিয়ে সরকারি ভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে না এলেও, আগের তালিকায় থাকা মঙ্গল মাহাতো ও মালতি মুর্মুর নাম তদন্তের পরিধিতে রয়েছে। পূর্ব সিংভূম পুলিশের পোস্টারে আকাশ-সহ এই ছ’জনের ছবি ও পুরস্কারের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল।
এই অবস্থাতেই রোলাহাটুর অস্ত্র উদ্ধারকে ঘিরে বাঁকুড়া-পুরুলিয়া যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সারান্ডা থেকে দালমা, তার মাঝের বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এবং পুরুলিয়ার বান্দোয়ান-সংলগ্ন জঙ্গল—এই বিস্তৃত ভূগোলেই আকাশের দল সরে যাওয়ার সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে নজরদারি চলছে। ফলে রোলাহাটুর পুরনো ডাম্পের অস্ত্র কোনও সময় আকাশের স্কোয়াডের ব্যবহারে ছিল কি না, অথবা নিরাপত্তাবাহিনীর চাপের সময় অস্ত্র অন্যত্র সরানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া দু’টি ইনসাস সরাসরি আকাশের অস্ত্র বলে চিহ্নিত করার প্রমাণ নেই। অন্তত এমনটাই দাবি বাঁকুড়া জেলা পুলিশের । একই ভাবে আকাশের সঙ্গে বর্তমানে থাকা দুই সদস্যের নামও পুলিশ প্রকাশ করেনি। ফলে তদন্তের কেন্দ্রে এখন তিনটি বিষয়—রোলাহাটুর ডাম্পের উৎস, আত্মসমর্পণকারীদের জেরায় পাওয়া তথ্য এবং সারান্ডা থেকে ডালমা হয়ে পুরুলিয়া-বাঁকুড়া সীমান্তের জঙ্গলপথে আকাশের পুরনো নেটওয়ার্কের কোনও যোগাযোগ এখনও সক্রিয় রয়েছে কি না।