• ২০ বছরের সশস্ত্র সংগ্রামে ইতি! স্বামী মদনের ডাকে বাংলায় আত্মসমর্পণের পথে মাওবাদী জবাও
    প্রতিদিন | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ঝাড়খণ্ড পুলিশের হাতে ধৃত স্বামীর ডাকে সাড়া দিয়ে ২০ বছরের সশস্ত্র সংগ্রাম ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরছেন সিপিআই (মাওবাদী)-র বঙ্গ ব্রিগেডের আরেক জোনাল সদস্য জবা মাহাতো। অন্যদিকে দু’দিন আগে রাজ্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা সচিনকে নিয়ে ঝাড়খণ্ডে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তবে তাঁকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ দেখানো হয়নি। তার মধ্যেই বাঁকুড়া জেলা পুলিশের সঙ্গে ঝাড়খণ্ড পুলিশ ও সিআরপিএফের কোবরা বাহিনীকে নিয়ে ওই তল্লাশি অভিযান চলছে। ওই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাঁকুড়া পুলিশ সুপার ভি জি সতীশ। শুক্রবার সরাইকেল্লা-খরসওয়া জেলার কুচাই এলাকার রলাহাতুর জঙ্গলে স্নিফার ডগ, মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে ওই মাও নেতার দেখানো গোপন স্থানে মাটি খোঁড়া হয়।

    তারপর সেখান থেকে দুটি ইনসাস রাইফেল, ৮ টি ম্যাগাজিন, ১০৪ রাউন্ড কার্তুজ সহ কিছু ম্যাগাজিন পাউচ ও ক্যান উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার দুপুর থেকে পূর্ব সিংভূম জেলার দলমা পাহাড়েও মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা সরঞ্জামের খোঁজে সচিনকে নিয়ে তল্লাশি চলছে। ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি থানার জমিরডিহা গ্রামের জবা মাহাতো পুলিশের খাতায় জবা ওরফে বুলু ওরফে গৌরি ওরফে বুড়ি নামে পরিচিত। বাংলায় প্রায় ২৭ টি এবং ঝাড়খণ্ডে ১৮ খুন, নাশকতা এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো মামলা রয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তাঁকে খুঁজে চলেছিল বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশ। ঝাড়খণ্ডে জবার মাথার দাম রেখেছিল ১ লাখ টাকা। বঙ্গ ব্রিগেডের বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সচিন এবং তার স্ত্রী জোনাল সদস্য মিতার আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত-র পর জবাও অস্ত্র ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসতে চলায় বিরাট স্বস্তি মিলেছে বাংলা-ঝাড়খণ্ড পুলিশের। মাধ্যমিক পাশ জবা ২০০৬ সালে সিপিআই (মাওবাদী)র বেলপাহাড়ি স্কোয়াডে যোগ দেন। ২০০৬ সালে পূর্ব সিংভূম জেলার পূর্ণাজল এলাকায় পার্টির মিটিং শেষে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি থানার কর্মাশোল গ্রামের বাসিন্দা তথা মাও কমান্ডার মদন মাহাতোর সঙ্গে জবার বিয়ে হয়। ওই বিয়েতে কিষেনজি-সহ একাধিক বড় মাপের মাও নেতা-নেত্রীরা ছিলেন। তারপর ২০০৯ সালে জবা জোনাল কমিটির সদস্য এবং মদন আঞ্চলিক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন।

    অপারেশন লালগড় থেকে বিভিন্ন আন্দোলনের, সশস্ত্র সংগ্রামে তারা এক সঙ্গে কাটিয়েছেন। কিষানজির মৃত্যুর পর বাংলা থেকে ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলা, দলমা, সরাইকেল্লা – খরসওয়া, খুঁটি, চাইবাসা হয়ে পশ্চিম সিংভূমের সারান্ডার জঙ্গলে পৌঁছান। দীর্ঘ কয়েক বছর সেখানে থাকেন। এমনকি অমিত শাহ-র আত্মসমর্পণের ৩১ মার্চের ডেডলাইন পর্যন্ত তারা জঙ্গল যুদ্ধ চালিয়ে যান। পরে জুলাই মাসে মাওবাদীদের বঙ্গ ব্রিগেডের বর্ষীয়ান নেতা তথা কেন্দ্রীয় কমিটির এক মাত্র সক্রিয় জীবিত সদস্য আকাশের সঙ্গে ১০ জন দলমায় ফেরেন। সেখানে ৪ আগস্ট মদন মাহাতো সহ তিন জন গ্রেপ্তার হন ঝাড়খণ্ড পুলিশের হাতে। পরে আরও এক নব্য মহিলা ক্যাডার আত্মসমর্পণ করেন। জবার চোখের পাশাপশি শারীরিক কিছু সমস্যা রয়েছে। ফলে গ্রেপ্তারের পর মদন জবাকে ফিরে আসার কথা বলেন। ২৪ অগাষ্ট সংবাদ প্রতিদিনে সেই খবর প্রকাশিত হয়। তারপর জঙ্গলে আত্মগোপন করে থাকা মাও নেত্রীর কাছে ওই বার্তা পৌঁছায়। স্বামীর চিন্তায় মুষড়ে পড়লেও প্রথমে ভাঙেননি। তবে শেষমেষ স্বামীর সাথে দেখা করতেই জঙ্গল জীবন ছেড়ে বাংলায় আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)