• আইনি জটেও ভাটা নেই জৌলুসে, বাগবাজারে জোরকদমে শুরু দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি
    প্রতিদিন | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দুর্গাপুজোর আর বাকি মাত্র ৩৫ দিন। তার আগে কলকাতাবাসীর মুখে আপাতত একটাই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। উত্তর কলকাতার রানি মা তথা বাগবাজারের পুজো এবার হবে তো? পুজো ঘিরে এখনও কাটেনি আইনি জট। তবে এর মাঝেই শুরু হয়ে গেল পুজোর প্রস্তুতি। শুরু হয়েছে প্রতিমার কাঠামো বাধার কাজ। স্থানীয়রা জানান, এখনও আইনি জট না কাটলেও বাগবাজারের পুজো হবেই।

    অন্যান্য বছর এই সময়ে বাগবাজারের মাঠে প্যান্ডেলের কাজ বেশ কিছুটা এগিয়ে যায়। প্রতিমার কাঠামোয় পড়তে শুরু করে মাটির প্রলেপ। কিন্তু এবার সেই তৎপরতা দেখা না যাওয়ায় মনখারাপ ছিল বাগাবাজারের বাসিন্দাদের। সকলেই চাইছিলেন, ১০৮ বছরের পুরনো পুজো যেন কোনওভাবে বন্ধ না হয়ে যায়। উত্তরের রানি মাকে নিয়ে কলকাতাবাসীর একাধিক প্রশ্ন ও কৌতুহলের মাঝেই এবার শুরু হল বাগবাজারের পুজোর প্রস্তুতি।

    থিম পুজোর জোয়ারে গা না ভাসিয়ে শতাব্দী প্রাচীন তথা বনেদি সংস্কৃতির অন্যতম মুখ এই মাতৃপ্রতিমা রাজকীয় বনেদিয়ানা আজও বাংলার দুর্গাপুজোর গর্ব। তাই ভক্তদের মধ্যে এই পুজোর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। চলতি বছর এই পুজো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতেই মনখারাপ বঙ্গবাসীর। প্রথমে গুজব ছড়ায়, এবার বাগবাজারের পুজো হচ্ছে না। কিন্তু পরে জানা যায় আসল সত্য।

    বাগবাজারের পুজো কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর টানাপোড়েন চলছিল। আদালতের নির্দেশে গত ৩০ আগস্ট দুই বিশেষ পর্যবেক্ষকের নজরদারিতে এবছরের পুজো কমিটির ভোটাভুটি হয়। তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৭৭, যার মধ্যে ৬৬ জন সদস্য নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কিন্তু চরম নাটকীয় মোড়ে এসে দেখা যায়, সম্পাদক পদের দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই ৩৩টি করে সমান ভোট পান। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন একই পরিবারের দুই ভাই-গৌতম ও ভাস্কর নিয়োগী। দু’জনেই সমান ভোট পাওয়ায় জয়ী প্রার্থী না মেলায় কমিটি নির্বাচনে জট কাটার বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। এ ছাড়াও ১২ জন কার্যকরী সদস্যর মধ্যে চারজন আবার ৩২টি করে ভোট পাওয়ায় সেখানেও ‘টাই’ হয়ে যায়। তবে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়ে যান।

    জটিলতা কাটাতে তখন আদালত নিযুক্ত দুই পর্যবেক্ষক নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে বলেন। সভাপতির কাস্টিং ভোট নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন ওই দুই পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ তুলে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। একই সঙ্গে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে অশান্তি ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ করেন এক মহিলা সদস্যও। স্বভাবতই পুজো নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। এখনও এই মামলা ঝুলে রয়েছে আদালতে। এখনও বের হয়নি কোনও সুরাহা। এই আবহে এবার বাগবাজারের পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)