দিল্লির বসন্ত কুঞ্জের একটি পাঁচতারা হোটেলে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হলো এক পাইলটের। হোটেলের ঘর থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত পাইলটের নাম সানি আসালদেকর (Sunny Asaldekar)। তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং চিকিৎসকদের মতামতের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সানি ১০ সেপ্টেম্বর বসন্ত কুঞ্জের ‘দ্য গ্র্যান্ড’ হোটেলে চেক-ইন করেছিলেন। দিল্লিতে লে-ওভারে ছিলেন তিনি। পরের দিন, ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তাঁর ভাই বার বার ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি হোটেল ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এর পর হোটেলের ম্যানেজার পাইলটের ঘরে গিয়ে দেখেন, দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বার বার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া মেলেনি। পরে হোটেলের মাস্টার কি ব্যবহার করে দরজা খোলা হয়। ঘরের ভিতরে সানিকে অচেতন ও কোনও রকম সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বসন্ত কুঞ্জ নর্থ থানার পুলিশ হোটেলে পৌঁছয়। ঘটনাস্থলে ডাকা হয় ক্রাইম টিমকেও। ঘরটি পরীক্ষা করে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের তরফে কোনও ধরনের অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা ‘ফাউল প্লে’-র সন্দেহের কথা জানানো হয়নি। ঘরটি ভিতর থেকে বন্ধ থাকার বিষয়টিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ১৯৪ নম্বর ধারায় ইনকোয়েস্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে, এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। বিমান সংস্থা জানিয়েছে, দিল্লিতে লে-ওভারে থাকার সময় হোটেলে ওই ককপিট ক্রু সদস্যকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং এই কঠিন সময়ে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, সানি এর আগে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসে কাজ করতেন এবং কয়েক মাস আগে এয়ার ইন্ডিয়ায় যোগ দেন। তিনি বোয়িং ৭৮৭ বিমান চালানোর জন্য কনভার্সন ট্রেনিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে এয়ারলাইন সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর পরের দিনের একটি ফ্লাইট ওড়ানোর কথা ছিল বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু রিপোর্টে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও, সেটিকে এখনও চূড়ান্ত কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে না। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত মতামত পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। আপাতত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে দিল্লি পুলিশ।