এই সময়, মালদা: মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। মালদার ভুতনিতে বানের জলে ফের মৃত্যু হলো চার বছরের এক শিশুর। মৃত সাফিউর রহমানের বাড়ি ভূতনি থানার উত্তর চণ্ডীপুরের পূর্ব সামিরুদ্দিনটোলায়। মৃতের বাবা আবদুল বারিক পেশায় শ্রমিক। বন্যা পরিস্থিতির কারণে গত কয়েকদিন ধরে তাঁর বাড়ির একতলার বারান্দা পর্যন্ত জলে ডুবে আছে।
স্ত্রী, দুই নাবালক ছেলেমেয়েকে নিয়ে আপাতত পাকাবাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন আবদুল। এ দিন বাড়ির লোকেদের অলক্ষ্যে আচমকা সিঁড়ি থেকে বারান্দায় জমা জলে পড়ে যায় শিশুটি। সঙ্গে সঙ্গে অতল জলে তলিয়ে যায় সে। বেশ কিছুক্ষণ পরে ছাদে ছেলেকে দেখতে না-পেয়ে পরিবারের লোকেরা চিৎকার শুরু করেন। এরপরে ওই জলে নেমেই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। বেশ কিছুক্ষণ পরে সাফিউরের দেহ উদ্ধার হয়। এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত বানভাসি মালদায় দুই কিশোর ও এ শিশু-সহ পাঁচ জনের মৃত্যু হলো।
এ দিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে ক্ষতির মুখে হাজার হাজার মানুষ। এই অবস্থায় ভূতনি-সহ জলমগ্ন এলাকায় ত্রাণে পুষ্টিকর খাবার বিলি করার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। ত্রাণে নিয়মিত ডিম, শুকনো চিড়া, চাল দেওয়া হচ্ছে। মালদার ডিআই মৃন্ময় রায় জানান, ভূতনি এবং রতুয়া মিলিয়ে ১৫টি হাইস্কুল বর্তমানে জলের তলায়। অসংখ্য পড়ুয়ার শিক্ষাসামগ্রী নষ্ট হয়েছে। তাদের বই, খাতা, পেন, পেন্সিল, ব্যাগ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, শনিবার নতুন করে গঙ্গার জল বাড়েনি। জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর জানিয়েছেন, তিন সেন্টিমিটার গঙ্গার জল কমেছে। এর ফলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। যদিও ভূতনি থানার হীরানন্দপুর, উত্তর ও দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬০টির বেশি জলমগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমেনি। বেশ কিছু বাড়ি ডুবে যাওয়ায় বাসিন্দারা টিনের চালে কিংবা ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের ত্রাণশিবিরে আসতে বলা হলেও তাঁরা বাড়ি ফেলে যেতে রাজি নন।
এরই মধ্যে বেশ কিছু বানভাসি এলাকায় পানীয় জল সঠিক ভাবে মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল ফোনের ব্যবহার প্রায় বন্ধ। ফলে অনেক জায়গায় যোগাযোগও করা যাচ্ছে না বলে খবর। এ ছাড়াও বন্যা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অসাধুচক্র তৈরি হয়েছে। তারা বানভাসিদের থেকে নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ। বাসিন্দাদের দাবি, বিষয়টি প্রশাসনকে দেখা উচিত। জেলাশাসক জানিয়েছেন, প্রশাসনের তরফে ১০টি বড় নৌকা বিনামূল্যে বানভাসিদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে। তার পরেও যদি কেউ টাকা আদায় করে সেটি পুলিশ তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা নেবে।