এই সময়: খাদ্য সুরক্ষার বিধি ও নিয়ম ভাঙার অভিযোগে ফ্যাসাই (ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া)-লাইসেন্স সাসপেন্ড করা যেতে পারে, কিন্তু সেটা অনির্দিষ্ট কাল স্থগিত রাখা যায় না। এক রেস্তোরাঁর দায়ের করা মামলায় বম্বে হাইকোর্টের দেওয়া এই পর্যবেক্ষণ বর্তমানে কলকাতা-সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে ভেজাল খাবার, বাসি খাবার এবং অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর জায়গায় খাবার তৈরির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযানের প্রেক্ষিতে তাৎপর্যপূণ বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ আইনজীবীরা।
সম্প্রতি বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি শর্মিলা ইউ দেশমুখ ও বিচারপতি নীরজ পি ধোতের ডিভিশন বেঞ্চ একটি রেস্তোরাঁর ফ্যাসাই-লাইসেন্স সাসপেনশন সংক্রান্ত মামলায় জানিয়েছে, প্রথম বার লাইসেন্স সাসপেন্ড করার পরে পরবর্তী ইনস্পেকশনে গিয়ে যদি দেখা যায়, আগের ত্রুটি শোধরানোর প্রমাণ দিয়েছেন রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ, তা হলে তখন আর সেই সাসপেনশন অনির্দিষ্ট কাল চালিয়ে যাওয়া যায় না। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষাই লাইসেন্স সাসপেনশনের মূল উদ্দেশ্য। সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেলে আইন মেনে নজরদারি চালানো যেতে পারে, কিন্তু লাইসেন্স স্থগিত রাখা যায় না বলে বম্বে হাইকোর্ট জানিয়েছে।
কলকাতা-সহ গোটা বাংলায় কিছু দিন যাবৎ লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। শুধু কলকাতাতেই এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। সেই তালিকায় যেমন ফাস্ট ফুড চেন রয়েছে, তেমনই রয়েছে মিষ্টির দোকান থেকে বড় রেস্তোরাঁ। পুরসভা ও প্রশাসনের অভিযানের পরে কয়েকটি জায়গা এখনও বন্ধ। আবার কিছু দিন বন্ধ থাকার পরে কয়েকটি খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ খুলেছে। যদিও অনেকগুলির লাইসেন্স এখনও সাসপেন্ডেড। এই অবস্থায় বম্বে হাইকোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে আইনজীবীদের একাংশ জানাচ্ছেন, অভিযানে যে সব ত্রুটি ধরা পরেছে, সে সব দ্রুত শুধরে নিলে লাইসেন্স সাসপেন্ড করে রাখার কোনও সুযোগ প্রশাসনের কাছে সম্ভবত নেই।