ভূস্বর্গের চেনা নৈসর্গিক দৃশ্যে লাগল ‘রং-এ-সিনেমা’।
ডাল লেকে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে শিকারা। আর পাঁচটা দিনের মতোই। তবে হাউসবোট ও শিকারাগুলোর ঠিক পাশে ডাল লেকের মধ্যে লম্বা করে বাঁধা হয়েছিল পাটাতন। সেখানে আড়াআড়ি ভাবে দাঁড় করানো হয় প্রজেক্টার স্ক্রিন! সেই পর্দায় ফুটে উঠল একের পর এক সিনেমা। ‘হাসিন ওয়াদিয়া’-কে সাক্ষী রেখে এ যেন নতুন পথচলা। জম্মু ও কাশ্মীরে শুরু হলো আন্তর্জাতিক স্তরের ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। প্রথমবার। আর এই বিশেষ আয়োজনে প্রবল ভাবে জুড়ে থাকল বাংলাও। সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) তরফে ফেস্টিভ্যাল আয়োজনে বিভিন্ন রকমের সাহায্য করা হয়েছিল।
মূলত শ্রীনগরে এবং তার সঙ্গে জম্মু ও গুলমার্গের বিভিন্ন জায়গায় ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর, টানা চারদিন ধরে আয়োজিত হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর। প্রায় ৪১টি দেশের ১৬৫টির মতো সিনেমা দেখানো হলো প্রথমবারের এই উৎসবে। আয়োজকদের তরফে জানা গিয়েছে, প্রায় ৬০টি দেশ থেকে হাজারের বেশি ছবি জমা পড়েছিল। সেখান থেকে বেছে নিয়ে হয়েছে সিনেমার স্ক্রিনিং।
পহেলগাম জঙ্গিহানার বছরখানেক বাদে কাশ্মীরের মাটিতে এই সাংস্কৃতিক পথচলা যেন কঠিন সময়ের মাঝে এনে দিল ফুরফুরে এক বাতাস। কারণ, বর্তমানে একটি বাদে কোনও মাল্টিপ্লেক্স নেই শ্রীনগরে। তাই ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনের (এনফডিসি) সহায়তায় জম্মু ও কাশ্মীরের সরকার উদ্বোধনী সিনেমা দেখানোর জন্য বেছে নিয়েছিল সেই মাল্টিপ্লেক্সকেই। শ্রীনগরের আইনক্সে লেবাননের পরিচালক সারা ফ্রান্সিসের ‘ডেড ডগ’ দেখানো দিয়ে শুরু হয় সিনেমার উৎসব। ফিচার ফিল্মের পাশাপাশি শর্টফিল্মও ছিল। কাশ্মীরের স্থানীয় শিল্পীদের উৎসাহ দিতে বেশ কিছু অ্যাওয়ার্ড ক্যাটাগরিও ছিল।
শুধু সিনেমা দেখানোই নয়, মাস্টারক্লাস, সেমিনার থেকে প্যানেল ডিসকাশন, ছিল একাধিক আয়োজন। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিল্পীরা জড়ো হয়েছিলেন শ্রীনগরে। ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সিনেমাও। কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-সহ বিশ্বের বিভিন্ন সিনেমা উৎসবে প্রশংসিত পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যর ‘নধরের ভেলা’-ও দেখানো হয়েছে শ্রীনগরের সিনেমা উৎসবে। ভারতের একমাত্র ছবি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিশন বিভাগে ছিল অমিত সাহা, ঋত্বিক চক্রবর্তী, প্রিয়াঙ্কা সরকার অভিনীত সিনেমাটি। কাশ্মীরের পরিচালক রাজা সমীর খান, পরিচালক মণি কৌল, নাটকের জগতের দিকপাল এমকে রায়নারাও হাজির ছিলেন।
পরিচালক অশোক বিশ্বনাথন এই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পৌঁছেছিলেন অ্যাক্টিং মাস্টারক্লাস নিতে। তিনি বলেছেন, ‘দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার পরে সফল ভাবে জম্মুু ও কাশ্মীরের মাটিতে প্রথম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আয়োজিত হলো। সেখানকার সরকারের এই উদ্যোগে ম্যানপাওয়ার, ব্রেনপাওয়ার দিয়ে সাহায্য করেছে এসআরএফটিআই। আমি ছাড়াও বিধু বিনোদ চোপড়া, ইমতিয়াজ় আলিরাও মাস্টারক্লাস নিয়েছেন। কাশ্মীরিদের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়েছি। এমনিতে বিশ্বজুড়েই এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছি আমরা, সেই জায়গাতে এই ধরনের সাংস্কৃতিক প্রয়াসই আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’