প্রশান্ত পাল, পুরুলিয়া
শারদোৎসব নয়, লিখতে হবে দুর্গাপুজো। তবেই বইয়ের স্টলের অনুমতি দেওয়া হবে। এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে মুখ্যমন্ত্রী যে বাতাই দিন না-কেন, পুরুলিয়া জেলা সিপিএম নেতৃত্ব জানিয়ে দিচ্ছেন, আগের মতো এ বারও পুজোর সময়ে হবে মার্কসবাদী সাহিত্যের স্টল।
দেড় দশক আগে ক্ষমতা থেকে চলে গেলেও এখনও পুজোর সময়ে পুরুলিয়ার নানা প্রান্তে বইপত্রের স্টল দেয় সিপিএম। শুধু দলীয় মতাদর্শগত বই-ই নয়, জেলা নেতৃত্বের দাবি, মুক্তচিন্তার বিভিন্ন বই, মনীষীদের জীবনী, প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলনও থাকে স্টলগুলিতে। স্টলে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের নেতা এবং কর্মীরাও উপস্থিত থাকেন স্টলে।
তবে এ বার রাজ্যে পাল্টেছে সরকার। তারা দিয়েছে নতুন ধরনের নির্দেশ। প্রশ্ন হলো, জেলা সিপিএম নেতৃত্ব কি স্টলে 'দুর্গাপুজো' শব্দবন্ধনী ব্যবহার করবেন? জেলা নেতৃত্ব জানাচ্ছেন, কোথায় লেখা হবে সেই শব্দ, সেটাই তো এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে আগে থেকে তা নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। পুরুলিয়া জেলা সিপিএমের সম্পাদক প্রদীপ রায় বলছেন, 'এ বারও পুজোয় বইয়ের স্টল দেওয়া হবে। বরং গতবার ছিল সাতটি স্টল। এ বার সেই স্টলের সংখ্যা বাড়বে।' সেই স্টলে কি লেখা থাকবে দুর্গাপুজো? প্রদীপের মন্তব্য, 'এখনও সেটা নিয়ে ভাবিনি। এটা নিয়ে আমাদের আলাদা বৈঠক হবে। তার পরেই ঠিক করব।' যোগ করেন, 'অগস্ট মাসে মুজফ্ফর আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে পুরুলিয়া শহরে দু'দিনের বই বাজার হয়েছিল। প্রচুর মানুষ বই দেখেছেন, কিনেছেন। পুজোয় আমাদের স্টলগুলিতে বই বিক্রির মাত্রা বাড়ছে।'
ডিওয়াইএফআই-এর পুরুলিয়া জেলা সভাপতি ও এসএফআইয়ের রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি সুব্রত মাহাতোর বক্তব্য, 'বই বিক্রি করার জন্যই তো স্টল দেওয়া হয়। তা ছাড়াও প্রচুর মানুষ স্টলে এসে বিভিন্ন বই দেখেন। কেউ পরে বইও কেনেন। আমরা তো মার্কসবাদী মতাদর্শের বই সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিতে চাই।' বরং একধাপ এগিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সামাজিক মাধ্যমে ২০২২-এর পুজোর শুভেচ্ছা সংক্রান্ত বার্তার পোস্ট তুলে ধরে সুব্রত বলছেন, 'তখন তো উনি সকলকে শারদ উৎসব ও মহাষষ্ঠীর প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। আজ কেন শারদোৎসব শব্দে এই আপত্তি, সেটাই তো স্পষ্ট নয়।'
এ বার বিধানসভা নির্বাচনে পুরুলিয়া জেলার সর্বত্র ফুটেছে পদ্ম। ফলে বিজেপি নেতৃত্বও দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে বইয়ের স্টলের সংখ্যা বাড়াতে মরিয়া। দলের জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো বা রাজ্য কমিটির সদস্য বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলছেন, 'গত বার স্টল দিয়ে যথেষ্ট ভাল সাড়া মিলেছিল এ বারও বিভিন্ন জায়গায় বইয়ের স্টল দেওয়া হবে।' কিন্তু প্রশ্ন হলো, পুজোর স্টল দিতে গেলে কি সিপিএমকে 'দুর্গাপুজো' লিখতেই হবে? সেই বিষয়ে কি দলীয় কর্মীরা নজরদারি করবেন? জেলা বিজেপির এক শীর্ষনেতার মন্তব্য, 'দুর্গাপুজো শব্দটি লিখতেই হবে।' তবে দলীয় কর্মীদের নজরদারি থাকবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।