• শুভেন্দুর মন্তব্যে পাল্টা শতরূপের!
    আজকাল | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্গাপূজার মরশুম শুরুর মুখেই রাজ্যের রাজনীতিতে শুরু হল নতুন বাগযুদ্ধ। পুজোর মণ্ডপের পাশে বামেদের বইয়ের স্টল দেওয়ার রেওয়াজ এবং সেখানে কোন ধরণের সাহিত্য বিক্রি হয়, তা নিয়ে এবার সরাসরি সংঘাত বাঁধল শুভেন্দু অধিকারী ও সিপিআই(এম) নেতা শতরূপ ঘোষের মধ্যে।

    বিধানসভার পর শনিবার কেষ্টপুরে এক গণেশ পুজোর উদ্বোধনে গিয়েও বামেদের বইয়ের স্টল নিয়ে কড়া আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, পুজোর সময়ে লাল শালু বিছিয়ে দেওয়া স্টলে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও মনীষীদের কোনও  স্থান থাকে না। শুভেন্দুর বক্তব্য, "লাল শালু দিয়ে কতগুলো বয়স্ক লোককে বসাবে, সেখানে টেবিলে দেখবেন স্বামী বিবেকানন্দের কোনও বই পাবেন না, প্রভু বুদ্ধের কোনও বই পাবেন না, স্বামী প্রণবানন্দের কোনও বই পাবেন না। সেখানে মাও সে তুং-এর বই পাবেন, কিন্তু আমাদের যে কৃষ্টি-সংস্কৃতি, তা খুঁজে পাবেন না।" একইসঙ্গে পুজো মণ্ডপের পাশে স্টল দিতে হলে বাম দলগুলিকে ‘শারদোৎসব’-এর বদলে স্পষ্ট করে ‘দুর্গাপুজো’ লেখার নিদানও দেন তিনি। পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, ‘দুর্গাপুজো’ না লিখলে যাতে তথাকথিত কমিউনিস্টদের কোনো স্টল করতে না দেওয়া হয়।

    শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ময়দানে নেমেছেন সিপিআই(এম) নেতা শতরূপ ঘোষ। ইতিহাস ও বাস্তব তথ্য তুলে ধরে তিনি শুভেন্দুকে কড়া জবাব দেন। শতরূপ বলেন, "শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন যে সিপিএমের বইয়ের স্টলে মার্ক্স বা লেনিনের বই থাকে, কিন্তু বিবেকানন্দর বই পাওয়া যায় না। তাঁকে আমি দুটো তথ্য দিতে চাই। প্রথমত, সিপিআই(এম)-এর স্টলে স্বামী বিবেকানন্দের লেখা এবং বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা— এই দুই ধরনেরই একাধিক বই পাওয়া যায়।"

    এর পাশাপাশি বাংলার রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সংযোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দুকে আরও একটি তথ্যের পাঠ দেন এই তরুণ বাম নেতা। শতরূপ বলেন, "আজ থেকে প্রায় ১২০ বছর আগে বাঙালিকে প্রথম মার্ক্স এবং লেনিনের বই পড়তে শিখিয়েছিলেন যিনি, তিনি আর কেউ নন— স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দের নিজের ভাই, বিপ্লবী ড. ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত।"

    পুজোয় বইয়ের স্টল বামপন্থী আন্দোলনের এক বহু পুরনো ঐতিহ্য। উৎসবের দিনগুলিতে মার্কসীয় সাহিত্যের পাশাপাশি মননশীল বই নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর এই রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। কিন্তু উৎসবের আবহে সেই বইয়ের স্টলে মনীষীদের ব্রাত্য রাখা এবং নামকরণ নিয়ে যে চাপানউতোর শুরু হল, তা আসন্ন উৎসবের মরশুমে বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপকে যে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
  • Link to this news (আজকাল)