• সাইবার প্রতারণায় যাদবপুর থেকে আটক বিহারের তিন 'মাথা'
    আজকাল | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাইবার প্রতারণার জট খুলতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। একের পর এক নিত্যনতুন অত্যাধুনিক ব্যবস্থা চালু করলেও, কলকাতা পুলিশের সাইবার শাখা নাজেহাল। এবার এই সাইবার প্রতারণার চক্রের হদিশ খুঁজে বের করতে, তদন্তের স্বার্থে দিল্লি থেকে কলকাতায় এল দিল্লি সাইবার পুলিশ। যা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি করেছে কলকাতা পুলিশের মধ্যে। 

    বলাবাহুল্য, প্রতারণার তদন্তে কলকাতায় এসে বড়সড় সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশের সাইবার শাখা। পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করল সাইবার পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর এটিএম কার্ড, সোয়াপ মেশিন, মোবাইল ফোন এবং সিম কার্ড। দিল্লিতে প্রতারণার মাধ্যমে হাতানো টাকা কলকাতার বিভিন্ন এটিএম থেকে তোলা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এমনটাই লালবাজার পুলিশ সূত্রে খবর।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাইবার সাউথ ওয়েস্ট, নয়াদিল্লির ই-এফআইআর নম্বর ৪৫৯/২০২৬-এর তদন্তে গতকাল শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর কলকাতায় আসে দিল্লি পুলিশের একটি দল। দিল্লি সাইবার পুলিশের এসআই নীরজ কাকরালিয়ার-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশের সহযোগিতা নেয়। এরপর এলাকার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। আর সেই সূত্র ধরেই শুরু হয় অভিযান।

    অভিযানে যে তিনজনকে আটক করা হয়, তাঁরা হলেন, ভারত বিশাল (২৮), ইন্দ্রজিৎ কুমার (৩০) ওরফে রোশন এবং বিরাজ কুমার। তাঁরা সকলেই বিহারের জেহানাবাদের বাসিন্দা। অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৮টি সোয়াপ মেশিন, ৬২টি এটিএম কার্ড, ১৪টি মোবাইল ফোন, ১০টি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। 

     তদন্তকারীদের দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহ করা টাকা এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন এটিএম থেকে তুলে নিতেন। এখনও পর্যন্ত প্রতারকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কানারা ব্যাঙ্ক, বন্ধন ব্যাঙ্ক, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে টাকা তোলার হদিশ মিলেছে।

    ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই সাইবার প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, কীভাবে প্রতারণার টাকা সংগ্রহ ও সরানো হত এবং উদ্ধার হওয়া বিপুল সংখ্যক এটিএম কার্ড ও পিওএস মেশিনের ব্যবহার কীভাবে করা হত, তা জানার চেষ্টা করছে দিল্লি পুলিশ।

    ধৃত তিনজনকে ট্রানজিট রিমান্ডের জন্য আলিপুরের আদালতে পেশ করা হবে। এরপর তাঁদের দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে পরবর্তী তদন্ত চালানো হবে। এমনটাই লালবাজার পুলিশ সূত্রে খবর।
  • Link to this news (আজকাল)