• বাবা-মাকে কুপিয়ে খুন, গ্রেপ্তার ছেলে
    আজকাল | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • মনিরুল হক, কোচবিহার: ডিম-ভাত নিয়ে বচসা। তার পরেই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন বাবা-মা। শুক্রবার দিনহাটার হিমঘর সংলগ্ন এলাকায় জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাঁদের ছেলে মহাদেব রায়কে। শনিবার দুপুরে সেই মহাদেবকেই সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেল পুলিশ। ঘটনার পুনর্নির্মাণে তাঁর দেখানো জায়গা থেকে উদ্ধার হল খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার রাতে খাবার খেতে বসে ডিম-ভাত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেন মহাদেব। সেই খাবার খেতে অস্বীকার করাকে কেন্দ্র করেই প্রথমে বচসা, পরে তা হাতাহাতি এবং শেষ পর্যন্ত খুন। পুলিশের সামনে ঘটনার পুনর্নির্মাণে এমনই দাবি করেছেন ধৃত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই বচসার জেরেই বাবা-মায়ের উপর হামলা চালান তিনি। 

    ঘটনার পর তাঁর মনে কোনও অনুশোচনা হয়নি বলেও মহাদেব পুলিশকে জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। যদিও ধৃতের এই বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনার অন্য দিকও উঠে আসছে। নিহত ব্যক্তি তাঁর বাবা নন, সম্পর্কে কাকু পুলিশের কাছে এমনই দাবি করেছেন মহাদেব। তাঁর আরও দাবি, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকতেন। ফলে ডিম-ভাতকে কেন্দ্র করে বচসাই জোড়া খুনের একমাত্র কারণ কিনা, তা নিয়েও তদন্তকারীদের সামনে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। 

    উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে দিনহাটা ভিলেজ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের হিমঘর সংলগ্ন এলাকায় বাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় এক দম্পতির রক্তাক্ত দেহ। মৃতেরা হলেন সুকুমার বর্মন এবং তাঁর স্ত্রী চম্পা রায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুকুমার পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন। সকালে বাড়ির মধ্যে দু’জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর যায় দিনহাটা থানায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ছিলেন দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক প্রশান্ত দেবনাথ, আইসি বুধাদিত্য রায়-সহ পুলিশ আধিকারিকেরা। ঘটনাস্থল ঘিরে শুরু হয় তদন্ত। 

    মৃত দম্পতির মেয়ে টুম্পা রায় জানিয়েছেন, সকালে একাধিকবার মাকে ফোন করেছিলেন তিনি। কিন্তু ফোন ধরেননি। সন্দেহ হওয়ায় বড় ছেলেকে বাড়িতে পাঠান। সেখানেই গিয়ে সে দু’জনকে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বলে দাবি টুম্পার। 

    এরপরেই তদন্তে উঠে আসে মহাদেবের নাম। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। ধৃতের দেখানো জায়গা থেকেই উদ্ধার করা হয় খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র বলে পুলিশের দাবি। 

    তবে ডিম-ভাত নিয়ে বচসার জেরে খুন, ধৃতের এই বক্তব্যই শেষ কথা নয় বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। নিহতদের সম্পর্ক, পারিবারিক টানাপড়েন এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ ছিল কিনা, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত ধৃতের বয়ান ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে প্রকৃত ঘটনার ছবি স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
  • Link to this news (আজকাল)