• এখনও জীবিত মুকুল রায়ের পুত্রবধূ? রয়েছেন চীনে!
    আজকাল | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর নিখোঁজ কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। তবে বিভিন্ন তথ্য ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চীনা ভূখণ্ডে তিনি বা তাঁর সঙ্গে থাকা পর্যটকদের কেউ নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে পারেন এমন সম্ভাবনা নিয়েই নতুন করে আশার আলো দেখছে পরিবার। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রকের মাধ্যমে চীনের বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাইয়ের আবেদন জানিয়েছেন শর্মিষ্ঠার স্বামী শুভ্রাংশু রায়। 

    শুভ্রাংশুর বক্তব্য, বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে চীনা সীমান্ত কর্তৃপক্ষ চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি কয়েকটি পর্যটক দলকে নিরাপদ অভ্যন্তরীণ সামরিক অথবা উদ্ধার শিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও সামনে এসেছে। সেখানে সরকারি তথ্যে দেখা যাচ্ছে, শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়, বছর ৪৪-এর শুভ্রাংশু-পত্নী আটটি ইমিগ্রেশন সেন্টার থেকে অপরপ্রান্তে রয়েছেন। ফলে হড়পা পানের খবর মেলায় যে পর্যটকদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাঁদের মধ্যেই থাকতে পারেন শুভ্রাংশুর স্ত্রী-সহ আরও ৩২ জন ভারতীয় পর্যটক। 

    তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় যোগাযোগে বিধিনিষেধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই এলাকায় আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা নিরাপদে থাকলেও তাঁদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না বলেই মনে করছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট করে শুভ্রাংশু আবেদন জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক যেন চীনের বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে। তাঁর কথায়, সীমান্ত পেরিয়ে কোনও শিবিরে পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন কিনা, তা যাচাই করা সম্ভব হলে নিখোঁজ পর্যটকদের ৩২টি পরিবারই স্বস্তি পাবে। 

    এর আগে ভ্রমণ সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন শুভ্রাংশু। তাঁর দাবি, তাঁর স্ত্রী ‘চলো যাই’ ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন। নেপালে পৌঁছনোর পর পর্যটকদের দায়িত্ব নেয় ‘সম্রাট ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস’ এবং তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্বে ছিল ‘লাসা’ নামে একটি চীনা সংস্থা। পর্যটকদের মৃত্যুর খবর বা তাঁদের নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি যে বাসের ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, সেই বাসে থাকা প্রত্যেক পর্যটকের পরিচয় ও নথি যাচাইয়েরও দাবি তুলেছেন তিনি। 

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ তারিখ একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে একাই নেপালের উদ্দেশে রওনা হন শর্মিষ্ঠা। ২৫ তারিখ রাতে শেষবার স্বামীর সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়। পরদিন, ২৬ তারিখ সকালে নেপালের চীন-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান আছড়ে পড়ে। এরপর থেকেই শর্মিষ্ঠার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 

    নিখোঁজের পর একাধিক সরকারি ও বেসরকারি সূত্রে বিভিন্ন তথ্য সামনে এলেও এখনও শর্মিষ্ঠার অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। তাই সম্ভাব্য প্রতিটি সূত্র যাচাই করে তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য দ্রুত সরকারি স্তরে উদ্যোগের দাবি জানাচ্ছে কাঁচরাপাড়ার রায় পরিবার। একইসঙ্গে নিখোঁজ ৩২ পর্যটকের পরিবারের উদ্বেগ দূর করতে ভারত ও চীনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়েরও আবেদন জানানো হয়েছে নিখোঁজদের পরিবারের তরফে।
  • Link to this news (আজকাল)