বিভাস ভট্টাচার্য: সেটাই হল। এটাই তো হওয়ার ছিল। কেন? মিডিয়া বাইট আর কলকাতা ছাড়া তো আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না! আরেকজনকে তো তাঁর জেলার বাইরেও খুঁজে পাওয়া যায় না! বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য। হঠাৎ করে এই ধরনের বক্তব্যের আলোচনার কারণ হল শনিবার সর্বভারতীয় কংগ্রেসের তরফে রাজ্যের জেলা সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে দুই শিবির অর্থাৎ বর্তমান রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং প্রাক্তন সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীর চৌধুরীর শিবিরের কে কে জেলা সভাপতি হলেন? যদিও সরকারিভাবে রাজ্য কংগ্রেসের দাবি, 'সবাই এক, কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই।'
কোনও কংগ্রেসের নেতা অফিসিয়ালি বা সরকারিভাবে একথা বলেন না অমুক শিবিরের ওঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আর তমুক শিবিরের তাঁরা সংখ্যালঘু। কিন্তু বাস্তবে যেটা জানা যাচ্ছে, শুভঙ্কর শিবিরের একেবারেই 'জয়জয়কার' (পাহাড় থেকে সমুদ্র যদি আকাশপথে আসা হয় তাহলে নীচে যেরকম উঁচু, নীচু জায়গা দেখা যায় এই তালিকাও অন্তত সেরকম। অধিকাংশ উঁচু জায়গায় শুভঙ্কর এবং অল্প কিছু নীচু জায়গা অধীর চৌধুরীর।)
এই তালিকা দেখে এটাই স্পষ্ট হয়, রাজ্য কংগ্রেসে অধীর এখন 'কোনঠাসা' এবং শুভঙ্কর সরকার তাঁর অনুগামীদের কথায়, 'যুগ যুগ জিও' বা 'দাদা তুমি এগিয়ে চলো আমরা তোমার সঙ্গে আছি' ধরনের কথা আগামী বেশ কয়েকদিন শুনবেন। যার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল গত ২১ জুলাইয়ের দিন। যেখানে কংগ্রেসের তরফে আয়োজিত স্মরণ সভায় অধীর আসার পর বেশিক্ষণ লাগেনি। 'শুভঙ্কর সরকার জিন্দাবাদ' ধ্বনিতে মুখর হয়ে গেল মঞ্চ।
যদিও একটি সূত্র জানিয়েছে, এরাজ্যের এক মহিলা কংগ্রেস নেত্রী প্রভাবও আছে এই তালিকা তৈরির পিছনে। তিনি নাকি রাজ্যের বাইরেই দলের কাজ করেন। তবে এটাও ঠিক, শুভঙ্করও কিন্তু বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হয়ে গেল। কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল করা বা বিধান ভবনে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করা অনেক সহজ। কারণ, সেখানে 'চ্যালেঞ্জ' থাকে না। কিন্তু খবর অনুযায়ী রাজ্যে পুরভোট হতে চলেছে। সেই ভোটটা কিন্তু জনগণ দেবে। ফলে শুভঙ্কর শিবিরের সভাপতিরা কে কত ভোট জোগাড় করতে পারে সেটা কিন্তু তাঁদের পরীক্ষা নয়। বর্তমান রাজ্য সভাপতির পরীক্ষা। এই মুহূর্তে রাজ্য সভাপতির নাম শুভঙ্কর সরকার।