• ২১ বছর পর ফের থানার সামনে রাত জাগলেন হুমায়ুন
    আজকাল | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: গোবরের উপর প্লাস্টিক পেতে তার উপর চেয়ার নিয়ে বসে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সারারাত শক্তিপুর থানার সামনেই কাটালেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। 

    মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র কর্মী সমর্থকদের ওপর পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে 'মিথ্যা মামলা দেওয়া' এবং অন্যায় অত্যাচারের অভিযোগ তুলে শনিবার বিকেল চারটে থেকে শক্তিপুর থানার সামনে ধর্নায় বসেন 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। প্রথমে সেই ধর্ণা থানার ভিতরে চললেও রাত বাড়তেই পুলিশ হুমায়ুনকে থানার ভিতরে ধর্ণা চালাতে দেয়নি বলে অভিযোগ। এরপর হুমায়ুন নিজের দলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানার সামনে বসে পড়েন।  সেই ধর্না রবিবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত চলে। 

    শনিবার শক্তিপুর থানার কাছে হুমায়ুন পৌঁছনোর  আগেই থানার প্রবেশপথ এবং সংলগ্ন কালভার্টের ওপরে বসার জায়গাটি কেউ বা কারা গোবর দিয়ে লেপে দেয়। রাতে কিছুটা শুকিয়ে যাওয়া গোবররে ওপর প্লাস্টিক পেতে সেখানেই দলীয় কর্মীদের নিয়ে ধর্না দেন হুমায়ুন। 

    সূত্রের খবর, গতকাল রাত দেড়টা পর্যন্ত কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে হুমায়ুন কবীর শক্তিপুর থানার সামনে চেয়ার পেতেই বসেছিলেন। এরপর  নিজের গাড়ির সিট কিছুটা নামিয়ে ঘণ্টা দু'য়েক বিশ্রাম নেন তিনি। তারপর ফের একবার কর্মী- সমর্থকদের নিয়ে সকাল ন'টা পর্যন্ত শক্তিপুর থানার সামনে ছিলেন হুমায়ুন কবীর । 

    হুমায়ুন কবীর বলেন, 'আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার কোনও থানার সামনে রাত জাগলাম। আজ থেকে ২১ বছর আগে ডিসেম্বর মাসে বহরমপুর থানার পুলিশ যখন অধীর চৌধুরীকে দিল্লি থেকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে বহরমপুরে নিয়ে এসেছিল সেই দিন বহরমপুর থানার লকআপে কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর ওপর যাতে কোনও অত্যাচার না হয় তা সুনিশ্চিত করতে অনেকের সঙ্গে আমিও রাত জেগে ছিলাম। আর দ্বিতীয়বার থানার সামনে রাত জাগলাম গতকাল।'

    তিনি বলেন, 'সারারাত জেগে থাকার কারণে কিছুটা ক্লান্তি অবশ্যই লাগছে কিন্তু আমি লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে যাব না।' নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, 'গতকাল আমি শক্তিপুর থানার সামনে অবস্থান করার কারণে আমার দলের কোনও কর্মী সমর্থকের বাড়িতে রাতে পুলিশ যায়নি। তবে আমার এই ধর্নায় কোনও লাভ বা ক্ষতি হয়েছে কিনা তার  তাৎক্ষণিক বিচার আমি করতে চাই না।"

    সঙ্গেই তিনি জানান, 'আজ সারাদিন বাড়িতে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বিকেল চারটার দিকে ফের রেজিনগর থানার সামনে ধর্নায় বসবো। আমার ধর্নায় বসার খবর পেয়ে গতকাল শক্তিপুর থানার পুলিশ থানার সামনে গোবর লেপে রেখে দিয়েছিল। আজও আমি ভালো কিছু আশা করছি না। আমার সঙ্গে যেমন ঘটনা ঘটবে তেমন তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেব। তবে আন্দোলন করলে এসব সহ্য করতে হয়।'

    হুমায়ুনের অভিযোগ, 'গতকাল পুলিশ বহুবার প্ররোচনা দিয়ে চেষ্টা করেছিল আমার বিরুদ্ধে যাতে নতুন করে আরও একটি মামলা শুরু করা যায়। কিন্তু আমি বা আমার দলের কোনও কর্মী পুলিশের প্ররোচনায় পা দেয়নি।' যদিও হুমায়ুনের অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশের তরফে কোনও মন্তব্য সামনে আসেনি। 
  • Link to this news (আজকাল)