এই সময়, মেদিনীপুর ও কলকাতা: শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায় গ্রেপ্তার হয়ে সিআইডি হেফাজতে। অভিযোগ, শালবনিতে একশো একরের বেশি সরকারি জমির চরিত্র বদল করে তা হস্তান্তরের ঘটনায় কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন হয়েছে। সুজয় হাজরার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সুমিত রায়ের অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি তদন্তকারীদের।
সিআইডির তরফে এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলা না-হলেও সুমিতকে হেফাজতে নেওয়ার পরে এই মামলায় আর কার কার নাম উঠে আসে, এই প্রশ্নই এখন জোরদার হয়ে উঠেছে। সূত্রের দাবি, এই ঘটনায় আর কে কে জড়িত, কারও নির্দেশে সুমিত এই প্রতারণায় যুক্ত হয়েছিলেন কি না, সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোটা বিষয়টি নিয়ে অবশ্য মুখে কুলুপ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের। সুমিতের গ্রেপ্তার এবং সিআইডি হেফাজত প্রসঙ্গে তৎকালীন তৃণমূলের এক নেতাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, 'এখন আর আমি রাজনীতিতে নেই। যা বলার দলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলবেন।'
এরপরেই ফোন কেটে দেন ওই নেতা। শালবনির এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে ফোন করা হলে তাঁর পরিবারের তরফে জানানো হয়, তিনি অসুস্থ। মেদিনীপুরের এক প্রাক্তন যুব নেতাও কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের জেলা সভাপতি অজিত মাইতির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকেও ফোনে পাওয়া যায়নি। মেসেজ পাঠালেও উত্তর আসেনি।
জেলার তৃণমূল নেতাদের একাংশের দাবি, সুমিত পশ্চিম মেদিনীপুরে নিয়মিত আসতেন না। বরং জেলার নেতারাই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে কলকাতায় যেতেন। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে তিনি এই জেলায় আসতেন। দলের এক নেতার দাবি, ২০১৪-তে খড়গপুরের পুরপ্রধান নির্বাচন ঘিরে জটিলতা চলাকালীন কাউন্সিলারদের রাখা হয়েছিল একটি লজে। সেই সময়ে সুমিত সেখানে এসেছিলেন। ২০১৭-তে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল ও কলেজ মাঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার প্রস্তুতি দেখতেও সুমিত মেদিনীপুরে এসেছিলেন বলেও ওই নেতার দাবি। পরবর্তীতে অভিষেকের 'নব জোয়ার' কর্মসূচি ঘিরে ঘাটালেও গিয়েছিলেন তিনি।
সুমিতের আইনজীবী অগ্নীশ বসু শনিবার জানান, মেদিনীপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিআইডি হেফাজতে রাখা হচ্ছে। করা হয়েছিল যাতে তিনি তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে প্রতিদিন দেখা করতে পারেন। আদালত সেই অনুমতি দিয়েছে। সেই অনুমতি সাপেক্ষে এ দিন সুমিতের সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন জানান অগ্নীশ। কিছু সংবাদমাধ্যমের তরফে দাবি করা হয়েছিল, সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে সুমিত নাকি দোষ স্বীকার করেছেন। যদিও অগ্নীশ বলেছেন, 'আমি ওঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে এমন কিছু হয়েছিল কি না। উনি জানিয়েছেন, এ রকম কিছু হয়নি। এ রকম কোনও কথা তিনি বলেননি।' অগ্নীশের আরও দাবি, সুজয় হাজরা এবং সুমিত রায়কে একঙ্গে যখন জেরা করা হয়েছিল, তখন সুমিতকে কোনও টাকা পাঠানোর বিষয় অস্বীকার করেছিলেন সুজয়। এই বিষয়টি ভিডিয়োগ্রাফিতেও আছে। এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময়েও উঠে এসেছে বলে দাবি ওই আইনজীবীর।