• 'হানিট্র্যাপ-টোপে' ব্যবসায়ী খুনের সূত্র পাচার পুলিশের!
    এই সময় | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়: আর্থিক প্রলোভন নাকি হানিট্র্যাপ — কোন 'অস্ত্রে' কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক সার্জেন্ট অয়ন গুপ্তকে বাগে এনেছিল ব্যবসায়ী নিখিল সবলোক হত্যাকাণ্ডে জড়িত আততায়ীরা, আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, খুনের অভিযোগে ধৃত মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাসের সঙ্গে যোগসাজশ করে অয়নকে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

    টাওয়ার লোকেশনের সূত্রে বেশ কয়েক দিন ধরে নিহত ব্যবসায়ীর গতিবিধির উপরে নজরদারি চালানো হয়েছিল। গত ২৪ অগস্ট অয়নের পাঠানো টাওয়ার লোকেশনের তথ্যের ভিত্তিতেই দিনের আলোয় ৩৩ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে একটি হোটেলের সামনে নিখিলকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় উত্তরপ্রদেশের শার্প শুটার।

    প্রশ্ন উঠছে, অয়ন কি এই পরিকল্পনার কথা জানতেন? নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য? ট্র্যাফিক সার্জেন্ট হওয়ার সুবাদে প্রযুক্তিগত সাহায্য পেতে অসুবিধে হয়নি অয়নের। তদন্তকারীদের ধারণা, সে কারণে খুব সহজে ওই ব্যবসায়ীর গতিবিধি জানতে পেরেছিল আততায়ীরা। খুনের ঘটনায় শার্প শুটার–সহ অন্যতম অভিযুক্ত অশোক সিং–কে আগেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    অভিযুক্ত এই কয়লা ব্যবসায়ী কলকাতার বাসিন্দা। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, প্রথমে টুইঙ্কলের সঙ্গে অশোকের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। কর্মসূত্রে সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল এবং সার্জেন্ট অয়ন দু'জনেই বেলেঘাটা ট্র্যাফিক গার্ডে কাজ করতেন। সেই সূত্রে অয়নের সঙ্গে অশোকের যোগাযোগের সূত্রপাত।

    তবে টুইঙ্কল কী ভাবে অয়নকে ওই কাজে যুক্ত করেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গোয়েন্দাদের ধারণা, এখানেই হানিট্র্যাপ বা টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয় থাকতে পারে। টাওয়ার লোকেশনের তথ্য পাচারের বিনিময়ে অয়নরা মোটা টাকা পেয়েছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    এ দিকে, কলকাতা পুলিশকর্মীদের একাংশ এই ঘটনায় অয়নের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় রীতিমতো হতবাক। তাঁর বাবাও কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার হয়ে অবসর নেন। অয়ন গত ১২ বছর ধরে কাজ করছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কখনও গুরুতর অনিয়ম বা গাফিলতির অভিযোগ ওঠেনি। প্রশ্ন উঠছে, তাঁর মতো দায়িত্বশীল পুলিশকর্মী কেন টুইঙ্কলের কথায় অপরিচিতদের কাছে কোনও ব্যবসায়ীর টাওয়ার লোকেশনের তথ্য দেবেন?

    নিখিল হত্যাকাণ্ডে কলকাতা থেকে অয়ন ও টুইঙ্কলকে গ্রেপ্তার করে ঝাড়খণ্ডে নিয়ে গিয়েছে চান্ডিল থানার পুলিশ। মোবাইলের চ্যাট হিস্ট্রি খতিয়ে দেখে অশোকের সঙ্গে টুইঙ্কলের কথাবার্তার যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে খুনের চক্রান্তে দু'জনেই জড়িত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

  • Link to this news (এই সময়)