• তারাতলার দুর্ঘটনা: ইঞ্জিনিয়ারকে 'বলির পাঁঠা' করায় কাজ বন্ধের ঘোষণা
    এই সময় | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়: ২৪ জুন তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে ১৬ জনের মৃত্যুতে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের সাব–অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (এসএই) আমিনুর শেখকে। তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু ঘটানো–সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। শনিবার আলিপুর আদালতে হাজির করানো হলে আমিনুরকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এ দিনই তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে পুরসভার ১৬টি বরোর এসএই–রা জানিয়েছেন, কাল, সোমবার থেকে কাজ বন্ধ রাখা হবে। কারণ, ওই এসএই–কে 'বলির পাঁঠা' করা হচ্ছে। এই হুঁশিয়ারিতে বিল্ডিং বিভাগে অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    এ দিন দুপুরে পুরসভার সদর কার্যালয়ের তিন তলায় ডিজি বিল্ডিংয়ের ঘরের সামনে জড়ো হন তাঁরা। অনেকে ডিজির ঘরের দরজায় পোস্টার সাঁটিয়ে দেন। কোনওটিতে লেখা — 'এসএই–কে বলির পাঁঠা করা হলো কেন? ডিজি তুমি জবাব দাও', কোনওটায় বার্তা — 'প্রাক্তন মেয়রের ওএসডি কালীর ঘনিষ্ঠ ডিজি বিল্ডিং উজ্জ্বল সরকারের পদত্যাগ চাই।'

    বিক্ষোভের সময়ে পুরসভায় উপস্থিত ছিলেন না ডিজি। তাঁর ফাঁকা ঘরে ঢুকে বৈঠক করেন এসএই–রা। অান্দোলনকারীদের তরফে ডিজিকে বার বার ফোন করা হলেও উত্তর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। এঁদের দাবি, এক এক জন এসএই–র উপরে অন্তত পাঁচটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব থাকে। এই বিপুল চাপ কারও একার পক্ষে সামলানো কার্যত অসম্ভব। উপরন্তু নানা সময়ে নানা চাপে জেরবার হন তাঁরা। বিক্ষুব্ধ এসএই–দের পাশে দাঁড়িয়েছেন লাইসেন্স বিল্ডিং সার্ভেয়ার বা এলবিএস–দের একাংশ। পুরসভার নিয়োগ করা এলবিএস অংশুমান সরকার বলেন, 'কিছু ঘটলেই এসএই এবং এলবিএস–দের কাঠগড়ায় তোলা হয়। অথচ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা চাপের কারণে তাঁরা সব সময়ে কাজটা ঠিক করে করতেই পারেন না।'

    নানা সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষোভ জমছিল পুরসভার নিচুতলার ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে। শুক্রবার রাতে আমিনুরের গ্রেপ্তারির সূত্রে সেই আগুনে ঘৃতাহুতি হয় এবং সরাসরি বিক্ষোভ–আন্দোলনে সামিল হন এসএই–রা। আমিনুরকে পূর্ণ মর্যাদায় ফেরানো পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে বলে বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানান। বছর দুয়েক আগে পুরসভার সাব–অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগ দিয়েছিলেন আমিনুর। কোনও দোষ না করেও তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ। কারণ, তিনি পুরসভার ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলেন। ভেঙে পড়া গুদামটি ওই ওয়ার্ডেরই ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে।

    গোটা বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ডিজি বিল্ডিংকে ফোন করা হলেও উত্তর মেলেনি। জবাব আসেনি হোয়্যাটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও।

  • Link to this news (এই সময়)