এই সময়: দিল্লি থেকে কলকাতা, মুম্বই থেকে বেঙ্গালুরু — মেট্রোর দৌড়ে নতুন মাইলফলকের সামনে ভারত। দেশে চালু মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য এখন প্রায় ১,১৭০ কিলোমিটার, দিল্লিতেই দৈর্ঘ্য ৪০০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। ইউএসে নেটওয়ার্ক প্রায় ১,৩৮৬ কিলোমিটার। ব্যবধান মাত্র ২১৬ কিলোমিটার।
ভারতে যে গতিতে সম্প্রসারণ চলছে, তাতে দু’বছরের মধ্যে আমেরিকাকে পিছনে ফেলে মেট্রো নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্যে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে দেশ। এই নিরিখে ‘ফার্স্ট’ চিন এখনও অনেকটা এগিয়ে (৮,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি)। তবে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া ভারতের থেকে পিছিয়ে গিয়েছে বেশ কিছু দিন আগে।
২০১৪–য় দেশের পাঁচটি শহরে ২৪৮ কিলোমিটার পথে মেট্রো চলত। ২০২৫-এর শেষে সেটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,০৯০ কিলোমিটারে। বিস্তার বেড়েছে ২৬টি শহরে। এ বছর ইন্দোরে নতুন ১১ কিলোমিটার মেট্রোরেলের পথ চালু হওয়ায় জাতীয় নেটওয়ার্ক পৌঁছেছে ১,১৭০ কিমির আশপাশে।
সরকারি হিসেবে গত বছরই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চালু মেট্রো নেটওয়ার্কে পরিণত হয় ভারত (১,০৪৯ কিলোমিটার)। তালিকায় জাপানের মেট্রো নেটওয়ার্ক ৮৯৮ কিলোমিটার, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭৬১ কিলোমিটার এবং রাশিয়ার ৭৪৭ কিলোমিটারের আশপাশে। ইউরোপের ছবিও তুলনায় অনেক ছোট। বিশ্বের দীর্ঘতম পৃথক মেট্রো ব্যবস্থাগুলির তালিকায় লন্ডনের নেটওয়ার্ক ৪৫৪ কিলোমিটার, মাদ্রিদের ২৭৯ কিলোমিটার মতো।
ভারতে মেট্রোর বিস্তারের গতি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ২০১৪ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার গুণ। এক সময়ে কলকাতায় শুরু হওয়া পরিষেবা এখন দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, পুনে, আহমেদাবাদ, লখনৌ-সহ বহু শহরের দৈনন্দিন গণ–পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। যার সূত্রে ইউএসএ–কে ছাপিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে দৈর্ঘ্যের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে উঠলেই সার্ভিসের সামগ্রিক মান বা যাত্রিসংখ্যায় দ্বিতীয় হওয়া যাবে না। বিভিন্ন দেশে ‘মেট্রো’, ‘লাইট রেল’, ‘কমিউটার রেল’ ও আঞ্চলিক রেলকে হিসেবের মধ্যে ধরার পদ্ধতিও আলাদা। তাই তুলনাটি মূলত চালু মেট্রো নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য ঘিরেই।