• ত্রিকোণ প্রেম নাকি অন্য রহস্য? পুরুলিয়ায় তরুণী খুনে সুতপাকাণ্ডের ছায়া, আরও কেউ জড়িত, দাবি বাবার
    এই সময় | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বছর তিনেক আগে রাস্তায় প্রকাশ্যে বছর একুশের সুতপা চৌধুরীকে কুপিয়ে খুন করেছিল প্রাক্তন প্রেমিক সুশান্ত চৌধুরী। বহরমপুরে হাড়হিম করা সেই ঘটনার অভিঘাত এতটাই ছিল যে, বিচার চলাকালীন একে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম অপরাধ’ বলে মনে করেছিল নিম্ন আদালত। পুরুলিয়ায় তরুণী খুনে সেই সুতপাকাণ্ডেরই ছায়া দেখছেন তদন্তাকারীদের একাংশ। তাঁদের কেউ কেউ মনে করছেন, সুশান্তের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে নতুন সম্পর্কে জড়ানোয় যে ভাবে খুন হতে হয়েছিল সুতপাকে, পুরুলিয়ার তরুণীকেও সম্ভবত একই কারণেই খুন হতে হয়েছে। তা নজরে রেখেই আপাতত ত্রিকোণ প্রেমের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।

    ইতিমধ্যেই তরুণীর প্রেমিক অমিত মাহাতোকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, তরুণী বাঘমুণ্ডি থানা এলাকার বোরদা গ্রামের বাসিন্দা। আর ওই থানা এলাকারই হুড়ুমদা গ্রামে অমিতের বাড়ি। একই কোচিংয়ে পড়তেন তাঁরা। সেই সূত্রেই ঘনিষ্ঠতা। বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, সম্প্রতিই সেই সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। অমিতের সন্দেহ হয়, তাঁদের সম্পর্কে তৃতীয় কোনও ব্যক্তির প্রবেশ ঘটেছে। সম্ভবত অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন প্রেমিকা। তা নিয়ে টানাপড়েনের জেরেই এই ঘটনা বলে মনে করছেন পুলিশের কেউ কেউ।

    পুলিশ সূত্রে খবর, চাকরির প্রস্তুতির জন্য পুরুলিয়া শহর লাগোয়া টামনা থানা এলাকার একটি মেসে থেকে পড়াশোনা করতেন অমিত। শনিবার রাতে সেখানেই যান ওই তরুণী। সম্ভবত সেখানেই তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সেই সময়ে রাগের মাথায় প্রেমিকাকে অমিত খুন করেছেন বলে অনুমান তদন্তকারীদের। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রেমিকাকে খুনের পরে রাতে তাঁর দেহ লোপাটেরও চেষ্টা করেছেন অমিত। দেহ বস্তায় ভরে বাইকে করে বাঘমুণ্ডির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময়েই তাঁকে রাস্তায় আটকায় পুলিশ। বস্তা থেকে রক্ত চুঁইয়ে পড়তে দেখেই তাদের সন্দেহ। তার পরেই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে খুনের কথা। পুলিশের একটি সূত্রে দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীদের লাগাতার প্রশ্নের মুখে ভেঙে পড়ে খুনের কথা স্বীকার করেছেন অমিত।

    রবিবার সকালে যুবককে পুরুলিয়া জেলা আদালতে হাজির করানো হয়। তাঁকে ৯ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়েছিল বলরামপুর থানার পুলিশ। বিচারক তা মঞ্জুর করেছেন। আদালতে হাজির করানোর সময়ে মাথা নিচু করে কার্যত মুখ লুকোনোর চেষ্টা করছিলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির প্রশ্নবাণে নিরুত্তরই ছিলেন যুবক। মেয়েটির পরিবারের লোকেদের দাবি, এই ঘটনায় শুধু অমিত নন, আরও কেউ জড়িত রয়েছেন। মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। মেয়েটির বাবা বলেন, ‘মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। ওর মা টানা ফোন করে যাচ্ছিল। কিন্তু ফোন বন্ধ ছিল। সেই কারণেই আমাদের সন্দেহ হয়। আমার থানায় গিয়ে বিষয়টা জানাই। পরে রাতে পুলিশ খবর দেয়, একটা দেহ উদ্ধার হয়েছে। তার পরেই আমরা থানায় গিয়ে দেখি, আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত, তাদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।’

    বলরামপুর থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘আপাতত খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। মেয়েটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি আমরা। ধর্ষণের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, খুনের নেপথ্যে ত্রিকোণ প্রেম নিয়ে টানাপড়েন ছাড়াও অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছি আমরা।’

  • Link to this news (এই সময়)