• মোটরবাইক উল্টে যেতেই সর্পবন্ধুকে কামড় চন্দ্রবোড়ার! এখন বিপন্মুক্ত মলয়
    এই সময় | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, পাঁশকুড়া: 'কার বিপদ কার ঘাড়ে গেল!' গত ৫ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে সর্পদংশনের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে এমন কথাই বলেছিলেন সর্পবন্ধু মলয় ঘোষ। সেই কথাই যেন সত্যি হয়ে সামনে এল মলয়ের জীবনে। জঙ্গলের মুক্ত জীবনে ছেড়ে দেওয়ার জন্য যে সাপকে উদ্ধার করে ফিরছিলেন, সেই সাপের কামড় খেয়েই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউয়ার মলয় ঘোষ। সর্পবন্ধুর সুস্থতা কামনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন অসংখ্য অনুরাগী।

    চলতি মাসের ৫ তারিখে ঘাটালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এক ব্যক্তির মোটরবাইকের মধ্যে লুকিয়েছিল চন্দ্রবোড়া। সেই সাপ উদ্ধার করেছিলেন মলয়। উদ্ধার করা সাপের ছোবল খান রাজা পাল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা। মলয় ওই ব্যক্তিকে দ্রুত ঘাটাল হাসপাতালে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করেন। ওই দিনই নিজের ফেসবুকে মলয় বলেছিলেন 'কার বিপদ কার ঘাড়ে গেল।' এ বার নিজেই সাপের কামড় খেলেন মলয়। জানা গিয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর, বুধবার মলয় খড়ার এলাকার দলপতিপুরে একটি পূর্ণবয়স্ক চন্দ্রবোড়া উদ্ধার করে কৌটোয় ভরে সেটিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার জন্য মোটরবাইকে ফিরছিলেন। বর্ষায় বেহাল রাস্তায় মলয়ের বাইক উল্টে যায়। সাপের কৌটোটি যে দিকে রাখা ছিল বাইকটি সেদিকেই পড়ে।

    বাইকের চাপে কৌটোর ঢাকনা খুলে বেরিয়ে পড়ে চন্দ্রবোড়া। বাইকের চাপে মলয়ও তখন অসহায়। সেই সময়েই মলয়কে ছোবল মারে চন্দ্রবোড়াটি। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বীরসিংহ হাসপাতালে ছুটে যান মলয়। সেখানে তাঁকে কুড়িটি এভিএস দেওয়া হয়। পরে তাঁকে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এই মুহূর্তে তাঁর ডায়ালিসিস চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত বিপন্মুক্ত মলয়। সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে অন্তত ২৫ বার সাপের সামড় খেয়েছেন মলয়। কিন্তু পথ দুর্ঘটনার জেরে সাপের কামড় এই প্রথম।

    চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের মাংরুল গ্রাম পঞ্চায়েতের পুড়শুড়ির বাসিন্দা, বছর ৪৫-এর মলয় পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী। নেশা সাপ ধরা। শুধু সাপই নয়, যে কোনও বন্যপ্রাণী বিপন্ন হলে ছুটে যান মলয়। ফেসবুকে সাপ না মারার বার্তা দেন। সাপে কামড়ালে ওঝার কাছে না গিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ফেসবুকে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা দু'লক্ষেরও বেশি। সর্পবন্ধু হিসেবে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

    পথ দুর্ঘটনার জেরে মলয়ের সাপে কামড় খাওয়ার ঘটনায় অবাক তাঁর অনুরাগীরা। ঘাটালের বাসিন্দা আদিত্য মান্না বলেন, 'মলয় একজন ভালো রেসকিউয়ার। তিনি সাপ ধরায় খুব দক্ষ। বাইক দুর্ঘটনায় সাপের কামড় মেনে নিতে পারছি না। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, এটাই চাই।' চন্দ্রকোণার বাসিন্দা রাজু দাস বলেন, 'খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। মলয় অসংখ্য সাপের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। ওঁর এই পরিণতি মানতে পারছি না।' মলয়ের পরিজনদের কথায়, 'এত বড় দুর্ঘটনার পরেও মলয় ভয় পায়নি। বরং মাথা ঠান্ডা রেখে একটুও সময় নষ্ট না করে সটান পৌঁছে গিয়েছে হাসপাতালে।'

    প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ১ তারিখ মেদিনীপুর সদর ব্লকের কুকুরমুড়ি এলাকায় সাপ উদ্ধার করার সময়ে অসাবধানতাবশত সাপের কামড়ে মৃত্যু হয় তপন সিংহ নামে এক সর্পবন্ধুর। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও বাঁচানো যায়নি তপনকে। তবে, তপন যেটা করেছিলেন তার সমালোচনা করেছিলেন অনেকেই। কারণ, সাপের কামড় খাওয়ার পরে তপন হাসপাতালে যাননি। বাড়ি পৌঁছেও কাউকে কিছু বলেননি। রাতের দিকে তাঁর শরীর খারাপ শুরু হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। মলয় অবশ্য সে ভুল করেননি।

  • Link to this news (এই সময়)