ভয়াল পদ্মায় ডুবন্ত ১০ বাংলাদেশির প্রাণ বাঁচাল BSF, জটিলতা ছাড়াই পাঠানো হল নিজেদের দেশে
আজ তক | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাহসের সঙ্গে সঙ্গে মানবিকতার দারুণ নিদর্শন রাখল বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স। সীমান্তে নদীর জলে ডুবতে বসা ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে তাঁদের প্রাণ বাঁচাল BSF। একইসঙ্গে ওই মানুষগুলিকে ফেরানো হয়েছে তাঁদের নিজেদের দেশেও।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার তারানগর সীমান্তে। এই এলাকায় সীমানার ঠিক পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে বর্ষার ভরা পদ্মা নদী। প্রতিদিনের মতোই সীমান্তের ওপার থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ওই ১০ জন মানুষ একটি সাধারণ নৌকায় চেপে পদ্মা নদী পারাপার করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই নদীর মাঝখানে শুরু হয় প্রবল ঢেউ এবং জলের মারাত্মক তোড়। মাঝ নদীতে নদীর সেই রুদ্রমূর্তির সামনে টিকতে পারেনি ছোট্ট নৌকাটি। চোখের পলকে চোখের সামনে নৌকাটি উল্টে যায় এবং নদীর অতল জলে তলিয়ে যেতে শুরু করেন সবাই।
ভাগ্যক্রমে নদীর ঠিক এই পাশেই তারানগর এলাকায় তখন টহল দিচ্ছিল BSF। হঠাৎ করেই তাদের চোখে পড়ে, পদ্মার মাঝখানে কিছু মানুষ জলের সঙ্গে লড়াই করে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে জওয়ানরা দেখান চরম সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধি। নদীর ওই উত্তাল ঢেউ এবং মারাত্মক স্রোতের তোয়াক্কা না করেই তারা তৎক্ষণাৎ স্পিডবোট নিয়ে সোজা ছুটে যান বিপদের মুখে। একে একে নদী থেকে উদ্ধার করা হয় মোট ১০ জনকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছে এক দুধের শিশুও।
জওয়ানরা শুধু তাঁদের জল থেকে উদ্ধার করেই ক্ষান্ত হননি, সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ঘাটে নিয়ে এসে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাঁদের শুকনো জামাকাপড়, খাবার এবং চিকিৎসার বন্দোবস্ত করে বিএসএফ প্রমাণ করে দিল যে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী শুধু দেশ রক্ষা করতেই জানে না, তারা মানবতার আসল পাঠটাও খুব ভালো করেই জানে! মানসিক ভাবে কিছুটা চাঙ্গা করার পর কোনো রকম জটিলতা না রেখে বিএসএফ সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুর্গতদের তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।