স্বামীকে বাবা-মায়ের থেকে আলাদা থাকতে বাধ্য করা নিষ্ঠুরতা! মহিলাকে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের
প্রতিদিন | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাংসারিক টানাপোড়েন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে ফের তাৎপর্যপূর্ণ রায় মাদ্রাজ হাই কোর্টের। আদালত বলছে, কোনও মহিলা যদি তাঁর স্বামীকে বাবা-মায়ের থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করে তাহলে সেটা নিষ্ঠুরতার শামিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধু এই জন্যই বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করা যায়।
সম্প্রতি এক মামলায় মাদ্রাজ হাই কোর্টের বিচারপতি পিটি আশা এবং বিচারপতি এন মালার ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “বিবাহ স্বামী-স্ত্রী দুজনের পারস্পারিক বোঝাপড়ার সম্পর্ক। স্বামী বা স্ত্রী কারও একার নির্দেশেই এই সম্পর্ক চলতে পারে না।” ওই মহিলার বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন তাঁর স্বামী। অভিযোগ, স্বামীকে বাবা-মায়ের থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করছেন মহিলা। আবার নিজে বেশিরভাগ সময় স্বামীর সঙ্গে না থেকে থাকছেন নিজের বাবার বাড়িতে। ওই বিবাহবিচ্ছেদের মামলাটি প্রত্যাহারের আর্জি নিয়ে মাদ্রাজ হাই কোর্টে যান মহিলা। কিন্তু তাঁর আর্জি আদালত খারিজ করে দিল।
মাদ্রাজ হাই কোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বলছে, “স্বামী বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তাঁর নিজস্ব বাড়িও ছিল। তবু স্ত্রী’র উসকানিতে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সমস্যা হল ওই আলাদা বাড়িতেও তাঁর স্ত্রী বেশিরভাগ সময় থাকতেন না। তিনি বেশিরভাগ সময় থাকতেন নিজের বাবা-মায়ের বাড়ি। কখনও কোনও কারণ ছাড়াই সেটা মাসের পর মাস পেরিয়ে যেত। ভুলে গেলে চলবে না বৈবাহিক বন্ধন খুব যত্নে লালন-পালন করার বিষয়। ভালোবাসা এবং মানিয়ে নেওয়ার বিষয়।”
আদালত বলছে, “এভাবে আলাদা থাকা এবং মহিলার বারবার বাবার বাড়ি চলে যাওয়া তাঁর স্বামীর মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। একজন স্বামী সবসময় এই ভয় নিয়ে বাঁচতে পারেন না যে তাঁর স্ত্রী যে কোনও সময় তাঁর সঙ্গে ঝামেলা করবেন এবং ডিভোর্স নিয়ে চলে যাবেন। তাছাড়া ছেলে বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান জানা সত্ত্বেও তাঁকে আলাদা থাকতে বাধ্য করাটা নিষ্ঠুরতা।”