নীতীন গড়করির সম্ভবত আত্মসমালোচনার সময় চলছে। দিন কয়েক আগে তিনি নিজের দপ্তরের কাজের ঢিলেমির জন্য ‘লজ্জিত’ বোধ করছিলেন। এবার নিজে মন্ত্রী থাকাকালীন করা কাজের জন্যই তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জ্যামে আটকে থাকতে হল। যার জেরে তিনি ইন্দো-আমেরিকান কূটনীতিকদের একটি জরুরি বৈঠকে পৌঁছলেন প্রায় ঘণ্টাখানেক দেরিতে। আবারও দুঃখপ্রকাশ করতে হল গড়করিকে।
আসলে গণেশ পুজোর জন্য মুম্বইজুড়ে এই মুহূর্তে ট্রাফিকের পরিস্থিতি ভয়াবহ। মুম্বই পুণে এক্সপ্রেসওয়েতে এই মুহূর্তে প্রায় ৩ কিলোমিটার লম্বা যানজট। একই পরিস্থিতি শহরের ভিতরেও। যার সম্মুখীন হতে হয়েছে নীতীন গড়করিকেও।আসলে ইন্দো-আমেরিকান কূটনীতিকদের ওই সমাবেশ মুম্বইয়ের একটি হোটেলেই হচ্ছে। ওরলি থেকে ওই হোটেলে যেতে যে সময় লাগার কথা, সেটার চেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা বেশি সময় লেগেছে স্রেফ ট্রাফিক জ্যামের জন্য। শেষে ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে গড়করি আক্ষেপের সুরে বলতে বাধ্য হলেন, যে নিজের কৃতকর্মের জন্যই এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হল তাঁকে।
গড়করি ওই অনুষ্ঠানে বলেন, “আজ এই অনুষ্ঠানে আসতে আমার এক ঘণ্টা দেরি হয়ে গেল। কারণ ওরলি থেকে হোটেলে আসার পথে আমি ট্রাফিক জ্যামে আটকে গিয়েছিলাম। এক ঘণ্টা বেশি সময় লেগেছে। কিন্তু সত্যি বলতে আমি নিজের ভুলেরই প্রায়শ্চিত্ত করছি। ১৯৯৫-২০০০, আমি মুম্বইয়ে ৫৫টি ফ্লাইওভার তৈরি করেছিলাম। এর মধ্যে বান্দ্রা-ওরলি সি লিংক এবং মুম্বই পুণে এক্সপ্রেসওয়েও আমার তৈরি। কিন্তু সেসময় এত ভালো প্রযুক্তি ছিল না।” গড়করির ইঙ্গিত, সেসময়ের ওই ফ্লাইওভারগুলি আজকের মতো উন্নত ছিল না। সেকারণেই এত ট্রাফিক সমস্যা।
নীতীন গড়করি ইদানিং যেন বিতর্কের সমার্থক। ইথানল বিতর্কের জেরে বেশ কোণঠাসা। দিন কয়েক আগে প্রকাশ্যে মুম্বই-গোয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাজে ঢিলেমি নিয়ে নিজের দপ্তরেরই সমালোচনা করেছিলেন। ওই এক্সপ্রেসওয়ে তিনি উদ্বোধন করবেন না বলেও ঘোষণা করে দেন। এবার নিজের পুরনো কাজের জন্য আক্ষেপ করতে শোনা গেল তাঁকে।