দিল্লিতে ব্রিকসের (BRICS Summit 2026) শীর্ষ সম্মেলন। কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধানদের এই সম্মেলন যেন হয়ে উঠল ‘ফ্যামিলি রিইউনিয়ন’। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping), রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) একসঙ্গে ছবি তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে। এমনকি জিনপিংয়ের সমস্যা দেখে বক্তৃতাও থামিয়ে দিয়েছেন মোদি। গালওয়ান সংঘাত ভুলে ভারত-চিন সম্পর্কে যে উন্নতি হয়েছে, মোদি-জিনপিংয়ের সখ্যই তার প্রমাণ বলা যেতে পারে।
শনিবার দিল্লির ভারত মন্ডপমে শুরু হয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে উদ্বোধনী বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ভাষণ দিতে শুরু করতেই মঞ্চ থেকে মোদি লক্ষ্য করেন, বসে থাকা জিনপিংয়ের কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে বক্তৃতা থামিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। চিনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকা দোভাষীকে জিজ্ঞাসা করেন, সব ঠিক আছে তো? কোনও সমস্যা হচ্ছে? যদিও শেষ পর্যন্ত বোঝা যায়নি ঠিক কী সমস্যা ছিল। সম্ভবত মাইক বা অনুবাদ নিয়ে কিছু অসুবিধা দেখা দেয়। বেশ কিছুক্ষণ এই কারণে বক্তব্য থামিয়ে রাখেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ৩০ সেকেন্ড পর ফের বক্তৃতা দিতে শুরু করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মোদি-জিনপিংয়ের এই সম্পর্কের উষ্ণতা আসলে ভারত-চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ছবিটাই তুলে ধরে। কারণ গালওয়ান সংঘাতের তিক্ততা ভুলে সাম্প্রতিক অতীতে বেশ ঘনিষ্ঠ হয়েছে ভারত এবং চিন। দেশের স্বার্থেই সীমান্তে শান্তি ফেরাতে সচেষ্ট হয়েছে নয়াদিল্লি এবং বেজিং। যদিও শনিবাসরীয় রাতে মোদি আয়োজিত গালা ডিনারে উপস্থিত ছিলেন না জিনপিং। তবে তার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠক করেন। বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে সীমান্ত সমস্যার অবস্থান নিয়ে তাদের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই ফুটে উঠেছে দুই দেশের প্রকাশিত বিবৃতিতে।
রবিবার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দিয়ে শেষ হয়েছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। তারপর ‘ফ্যামিলি ফটো’ তোলেন ব্রিকস পরিবারভুক্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। সেখানে দেখা যায়, একদিনে পুতিন এবং অন্যদিকে জিনপিংকে সঙ্গে নিয়ে ছবি তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মোদি এবং ভারত কতখানি গুরুত্বপূর্ণ, এই ছবিই তার প্রমাণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।