• ব্রিকসের নৈশভোজে শুধুই নিরামিষ, ‘৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষাশী’, মনে করালেন রাহুল
    প্রতিদিন | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বঙ্গ সফরে বাগেশ্বর বাবার আমিষ বিতর্কের মাঝেই দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের নৈশভোজে নিরামিষ মেনু। দু’য়ে মিলে আমিষ-নিরামিষ ইস্যুতে চর্চা শুরু হয়েছে গোটা দেশে। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই রবি সকালে মোদি সরকারের সমালোচনা করে সোশাল মিডিয়ায় নিজের প্রাতঃরাশের ছবি পোস্ট করলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নিরামিষ মেনুতে ভরা ব্রিকসের নৈশভোজকে কটাক্ষ করে লিখলেন, ‘৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষাশী।’

    রবিবার সকালে সোশাল মিডিয়ায় বাঙালির প্রিয় ‘লুচি’ ও দিল্লিবাসীর পছন্দের ‘ছোলে ভাটুরে’র একটি ছবি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন রাহুল গান্ধী। লোভনীয় এই পদের সঙ্গেই ক্যাপশনে লেখেন, ‘৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু, ঠিক আমার বোনের হাতে তৈরি ছোলে ভাটুরের মতো।’ ছোট্ট এই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয়েছে চর্চা। মনে করা হচ্ছে, ব্রিকস সম্মেলনে রাষ্ট্রনেতাদের নৈশভোজে মোদি সরকারের আয়োজিত নিরামিষ মেনুকে কটাক্ষ করেছেন রাহুল। কারণ জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনে খাবারের মেনুতে ছিল শুধুই নিরামিষ পদ। যেমন, খান্ডভি, পনির লাবাবদার, গুচ্চি মার্মিক, মিলেট পোলাও, মাশরুম গালৌটি এবং জিলিপি। মেনুতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মিলেটকে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আন্তর্জাতিক এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় খাবারের ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে আমিষকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার ঘটনা মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না বিরোধী দলনেতা।

    আবার কেউ বলছেন, ব্রিকসের নৈশভোজের পাশাপাশি বঙ্গ সফরে বাগেশ্বর বাবার নিরামিষ নিদানকে কটাক্ষ করেছেন রাহুল। সম্প্রতি বাংলায় এসে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া বাঙালিকে ‘পাখন্ডি’ বলে আক্রমণ শানান তিনি। এই ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ বঙ্গবাসী। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের নিন্দা করা হয়েছে বিজেপির তরফেও। এহেন পরই রাহুলের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

    যদিও বিরোধী দলনেতা ৮০ শতাংশ ভারতীয় আমিষভোজী বলে যে দাবি করেছেন তার কোনও সূত্র উল্লেখ করেননি। ২০২৩-২৪ সালে পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষায় এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি কেন্দ্র। তবে ২০১৯-২১ সালের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ১৫-৪৯ বছর বয়সী ৮৩.৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৭০.৬ শতাংশ মহিলা মাছ বা মাংস ভক্ষণ করেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)