জমি দুর্নীতির টাকা সোজা যেত সুমিতের দপ্তরে! অভিষেকের প্রাক্তন দুই দেহরক্ষী ফাঁস করলেন কেলেঙ্কারি?
প্রতিদিন | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় রাজ্য গোয়েন্দা দপ্তর সিআইডির হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য! জালিয়াতির বিপুল অর্থ সুমিত রায়ের অফিসে নাকি পৌঁছে দিতেন প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। এমনই দাবি করা হয়েছে সিআইডির জমা দেওয়া চার্জশিটে। এক্ষেত্রে রাজ্য গোয়েন্দা আধিকারিকদের হাতিয়ার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই দেহরক্ষীর বয়ান। শুধু তাই নয়, সুজয় হাজরার ব্যক্তিগত গাড়ি চালককে জেরা করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে খবর। এমনকী শালবনিতে উদ্বাস্তুদের জন্য বরাদ্দ জমি দখল করে নেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে।
শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় গত কয়েকদিন আগেই সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা যায়, এই মামলায় গত ২ সেপ্টেম্বর চার্জশিট জমা দিয়েছে সিআইডি। সেখানে সুমিতের নাম অভিযুক্ত হিসাবে না থাকলেও সুজয় হাজরার নাম রয়েছে। মোট ২০ জন সাক্ষীর কথা ওই চার্জশিটে উল্লেখ করেছে সিআইডি। যার মধ্যে যেমন স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা রয়েছেন, তেমনই আছেন অভিষেকের দুই প্রাক্তন দেহরক্ষী এবং দু’জন গাড়িচালক। তদন্তকারীদের দাবি, সরকারি জমি ঘিরেই জালিয়াতির ছক সাজানো হয়েছিল। এমনকী উদ্বাস্তুদের চাষাবাদের জন্য সেই জমা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিতের নির্দেশেই ওই জমি নিয়ে দুর্নীতি করা হয়েছিল বলে দাবি। শুধু তাই নয়, এই চক্রের সঙ্গে সুজয় হাজরা, অনিতেশ পয়রা এবং তাঁদের সহযোগীরাও যুক্ত।
শুধু তাই নয়, তদন্তে বিপুল আর্থিক লেনদেনেরও হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। দফায় দফায় সাক্ষীদের জেরা করে বেশ কিছু তথ্য সিআইডির হাতে এসেছে। সেই বয়ান থেকে জানা গিয়েছে, জমি জালিয়াতি করে সুজয় হাজরা বিপুল অর্থ তুলতেন আর তা সুমিতের দপ্তরে পাঠিয়ে দিতেন। সিআইডির দাবি, উদ্বাস্তুদের জমি জালিয়াতি করে বিক্রির যে চক্র, তার মূল মাথাই ছিলেন সুমিত। আর তা অভিষেকের দুই দেহরক্ষীকে জেরা করে উঠে এসেছে বলে দাবি আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, সুজয় হাজরার হয়ে দুই দালাল কাজ করতেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। সিআইডি-র চার্জশিটে উল্লেখ, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সুমিতের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে মোট সাত কোটি টাকা জমা পড়েছে। এই টাকার উৎস কী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তা জানাতে পারেননি সুমিত। তবে দীর্ঘ জেরার মুখে পড়ে ধৃত সুমিত রায় নিজের অপরাধ কার্যত তিনি স্বীকার করে নিয়েছে বলেই মেদিনীপুর আদালতে ফরোয়ার্ডিং লেটারে চাঞ্চল্যকর এই দাবি করেছে সিআইডি।