• গায়ের রং যেন অপরাজিতা ফুল, বাংলার কোথায় পূজিতা হন নীলবর্ণা দুর্গা?
    প্রতিদিন | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দুর্গা মানেই যেন সোনার বরণ। উজ্জ্বল হলুদ রঙের। তবে কৃষ্ণনগরের চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গা সোনার বরণ নন। তাঁর গায়ের রং যেন অপরাজিতা ফুল। ওই নীলবর্ণা দুর্গাই পূজিতা হন এই বনেদি বাড়িতে। জৌলুস কমলেও, পুজোর ঐতিহ্যে কোনও ভাটা পড়েনি। আপাতত এই পুজো আয়োজনের ব্যস্ততা তুঙ্গে পরিবারের সদস্যদের।

    পুজোর সূচনা আজ থেকে প্রায় তিনশোরও বেশি বছর আগে। ওপার বাংলায় থাকাকালীন পুজো শুরু হয়েছিল চট্টোপাধ্যায় পরিবারে। দেশভাগের যন্ত্রণা বুকে নিয়ে এই পরিবারের সদস্যরা কৃষ্ণনগরে চলে আসেন। তবে পুজোয় কোনওদিন ছেদ পড়েনি। এমনকী ২০২১ সালে কোভিডকালেও পুজো বন্ধ হয়নি। সাবধানে পুজোর আয়োজন করা হয়। ওপার বাংলা থেকে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের কর্তা জীবনলাল চট্টোপাধ্যায় এপারে এসে শুরু করেন দুর্গাপুজো। প্রতি বছরই পালিত হয় দুর্গাপুজো। এই বনেদি বাড়ির পুজোর মূল আকর্ষণ প্রতিমার রং। প্রথম দিকে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দেবীমূর্তি ছিল হলুদ।

    কথিত আছে, একবার প্রতিমা রং করে ঘুমিয়ে পড়েন শিল্পী। ঘুম থেকে উঠে সকলে দেখেন প্রতিমা নীল রঙের হয়ে গিয়েছেন। সেই রাতেই স্বপ্নাদেশ পান। দেবী বলেন, নীল রঙের দুর্গাকেই পুজো করতে হবে। সেই থেকে শুরু। আজও সেই নীলদুর্গাই পূজিতা হন চট্টোপাধ্যায় পরিবারে। জানা গিয়েছে, প্রথা মেনে আজও সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে পাঠা বলি হয় ওই বাড়িতে।

    এই বাড়ির পুজোয় দেবীমূর্তির বামদিকে থাকে লক্ষ্মী-গণেশ। ডানদিকে থাকে কার্তিক-সরস্বতী। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, “সারা বছরই পরিবারের সদস্যরা দেবীর পটে ধুপ-ধুনো, ফুল দিয়ে পুজো করেন। পঞ্চমীর দিন দেবী প্রতিমাকে বরণ করে নেওয়া হয়। একাধিক নিয়ম-নীতির মধ্য দিয়ে বছরের পর বছর ধরে হয়ে আসছে পুজো। প্রথা মেনে আজও সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে পাঁঠা বলি হয়।” পুজোর কয়েকটাদিন আত্মীয় সমাগমে জমজমাট হয়ে ওঠে গোটা বাড়ি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)