পুরভোটের মুখে সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে গেলেন প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তারক সিং। একা নন, রবিবার দুপুরে সপরিবারে তিনি যান শাসকদলের পার্টি অফিসে। প্রথমে নিজের যাওয়ার কারণ সম্পর্কে কিছু না জানালেও পরে জানান, পুলিশের তরফে অসহযোগিতার মতো বেশ কয়েকটি অভিযোগ নিয়ে তিনি দেখা করেছেন বিজেপি নেতাদের সঙ্গে। তার সুরাহা হল কি? তার জবাব অবশ্য মেলেনি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশে জল্পনা, তারক সিংয়ের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কলকাতা পুরসভায় দীর্ঘ বেশ কয়েকবছর ধরে মেয়র পারিষদের দায়িত্ব সামলেছেন তৃণমূলের তারক সিং। ছাব্বিশের ভোটে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিভিন্ন পুরসভায় চাপ তৈরি হয়। কলকাতা পুরসভার কাজকর্ম নিয়েও বিস্তর অভিযোগ ওঠে। প্রাক্তন শাসকদলের নির্দেশে কাজ করতে হতো, নিজেদের মতো কাজ করা যেত না, এমন নানা অভিযোগ তুলতে শুরু করেন পুরসভার জনপ্রতিনিধিরা। এই পরিপ্রেক্ষিতে জঞ্জাল বিভাগের মেয়র পারিষদ তারক সিং নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন। তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের ঘনিষ্ঠ হন। পরবর্তী সময়ে মেয়র পদ ছেড়ে দেন ফিরহাদ হাকিমও। পুজোর পরই কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমে ভোট হবে। তৈরি হবে নতুন বোর্ড।
এই পরিস্থিতিতে রবিবার দুপুর ১টা নাগাদ আচমকাই সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে গেলেন তারক সিং। সঙ্গে স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, একগুচ্ছ কাগজপত্র। সেসময় বিজেপি দপ্তরে একটি দলীয় বৈঠক চলছিল। ওই বৈঠকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো উপস্থিত ছিলেন।আসন্ন পুরভোটের আগে তারক সিংয়ের এই হাজিরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ‘ফুল বদল’ বা পুনরায় দল পরিবর্তনের জোর জল্পনা তৈরি হয়। তবে বিজেপি দপ্তর থেকে বেরনোর পর তিনি দলবদলের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তারক সিং জানান যে, তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক ‘মিথ্যা মামলা’ করা হয়েছে, পুলিশ সহযোগিতা করছে না। সেই বিষয়েই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে নালিশ করতে তিনি বিজেপির পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন।