নাগাল্যান্ডের গ্রামে রহস্যমৃত্যু ৯ জনের। অভিযোগ, বিষমদ খাওয়ার পরেই মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। নাগাল্যান্ডের টুয়েনসাং-এ এই ঘটনার পরেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি মদ্যপান করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে সেই রাজ্যের বাসিন্দাদের। একাধিক জেলায় বাসিন্দাদের মদ্যপান করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন নাগাল্যান্ড পুলিশের ডিজি রুপিন শর্মা।
জারি ‘রেড অ্যালার্ট’
দিন কয়েক আগেই বিষাক্ত মদ খেয়ে ১১ জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায়। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই একই অভিযোগ উঠল নাগাল্যান্ডে। সেখানকার টুয়েনসাং (Tuensang)-এর সিভিল হাসপাতালে বিষাক্ত বা ভেজাল মদ্যপানের জেরে অন্তত ন’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। শনিবার ওই মৃত্যুর খবর আসার পরেই রাজ্য জুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছেন নাগাল্যান্ডের ডিজিপি। সেই সঙ্গেই এই মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মৃতরা সকলেই একটি বিশেষ ব্র্যান্ডের রাম খেয়েছিলেন বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
মদ্যপান না করার পরামর্শ
টুয়েনসাং-এ বিষমদে ৯ জনের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার পরেই রবিবার সেই রাজ্যের বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন ন্যাগাল্যান্ডের ডিজিপি রুপিন শর্মা। ওই রাজ্যের, বিশেষ করে মন, মোককচুং (Mokokchung), টুয়েনসাং, লংলেং, কিফিরে (Kiphire), শামাতোর ও নকলাক (Noklak) জেলার বাসিন্দাদের এখন মদ্যপান না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গেই অন্য জেলার বাসিন্দাদেরকেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়েছে পুলিশের তরফে।
সাগরে বিষমদ কাণ্ডে ধৃত মূল অভিযুক্ত
অন্য দিকে, গত সপ্তাহেই মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার বান্দা বিধানসভা এলাকায় মৃত্যু হয় ১১ জনের। অভিযোগ, বিষাক্ত মদ্যপান করার কারণেই মৃত্যু হয় তাঁদের। ওই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শিবঞ্জয় রাজপুতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার, সাগর জেলার পুলিশ সুপার অনুরাগ সুজানিয়া জানান, শিবঞ্জয় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এই খবর পাওয়ার পরেই তাঁকে ধরার জন্য অভিযান চালায় ভিরোল ও বান্দরি থানার পুলিশ। সেখানকার কাঠভা সেতুর কাছে শিবঞ্জয়কে ধরার চেষ্টা করতেই তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এর পরেই গ্রেপ্তার কর হয় শিবঞ্জয়কে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নিয়ে তদন্তও চলছে বলে জানিয়েছে সাগর জেলার পুলিশ।