পুত্রবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। খুনের পরেই একটি কুয়োতে ঝাঁপ দেন অভিযুক্ত। নাগপুরের যশোধারানগর এলাকার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তর দাবি, পুত্রবধূ নিয়মিত ‘কালা জাদু’ করতেন। এই কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম লক্ষ্মী রবিশঙ্কর পালি (৪২)। গত কয়েক মাস ধরেই শ্বশুর নাথুলাল পালির সঙ্গে বিবাদ চলছিল তাঁর। শনিবার বিবাদ চরমে পৌঁছয়। এর পরেই সেই বিবাদ মর্মান্তিক পরিণতির দিকে গড়ায়।
জানা গিয়েছে, শনিবার কাপড় ধুচ্ছিলেন লক্ষ্মী রবিশঙ্কর পালি। সেই সময়ে শ্বশুরের সঙ্গে ফের ঝগড়া বাধে তাঁর। সেই বচসার সময়েই, ক্ষিপ্ত হয়ে, নাথুলাল কুঠার দিয়ে আঘাত করেন লক্ষ্মীর মাথায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারার ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় লক্ষ্মীর। অন্তত অভিযোগ এমনই।
এর পরেই বাড়ির পিছনে থাকা কুয়োয় ঝাঁপ দেন নাথুলাল। পরে পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। গ্রেপ্তারের পরে চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, বছর তিনেক আগে মৃত্যু হয় লক্ষ্মীর স্বামীর। দুই সন্তানকে নিয়ে আলাদা ঘরে থাকতেন তিনি। অন্য দিকে, নাথুলালের সঙ্গেও তাঁর স্ত্রীর বিবাদ হয়েছিল। সেই কারণে তাঁরাও আলাদা ঘরে থাকতেন।
এ দিকে, প্রায় দিনই অসুস্থ হয়ে পড়তেন নাথুলাল। পুত্রবধূ তাঁর উপর ‘কালা জাদু’ ( black magic) করছেন বলে সন্দেহ করতেন তিনি। সেই সঙ্গেই তাঁর বিশ্বাস ছিল যে, এই কালো জাদুই তাঁর অসুস্থতার কারণ। ‘কালা জাদু’-র কারণেই তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে বলেও মনে করতেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, এ নিয়ে মাঝেমধ্যে প্রায়ই নাথুলাল এবং তাঁর পুত্রবধূর মধ্যে ঝগড়া হতো।
রবিবার, যশোধারানগর (Yashodhara Nagar) থানার আধিকারিক ইউনূস শেখ জানিয়েছেন, কুয়োর মধ্যে এক বৃদ্ধ পড়ে গিয়েছেন বলে খবর পাওয়ার পরেই দমকলকর্মীদের নিয়ে সেখানে গিয়েছিল পুলিশ। সেখান থেকেই ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করা হয়। তখনই জানা যায় পুত্রবধূকে হত্যার পরেই ওই কুয়োতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন নাথুলাল। এই নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।