প্রতিদিনের কাজ আর ব্যস্ততার মাঝে হাঁপিয়ে উঠেছেন? শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে গিয়ে দু’দিনের জন্য নিজেকে সময় দিতে চাইছেন? তা হলে সামনেই দুর্গাপুজোর ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন পাহাড়-নদীর কোলে গড়ে ওঠা শান্ত গ্রাম ঝালং (Jhalong) থেকে।
পুজোর ছুটি মানেই কারও কাছে প্যান্ডেল হপিং, হৈ-হুল্লোড় আর আলো ঝলমলে শহর। আবার কেউ চান কয়েকটা দিন একেবারে নিরিবিলিতে, প্রকৃতির কাছাকাছি কাটাতে। আপনি যদি দ্বিতীয় দলের হন, তা হলে ঝালং হতে পারে আপনার জন্য দারুণ একটি অফবিট গন্তব্য।
প্রকৃতির কোলে দু’দিন
কালিম্পং অঞ্চলের এই শান্ত পাহাড়ি গ্রামটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শিলিগুড়ি থেকে কিছুটা দূরে, জালঢাকা নদীর পাশে অবস্থিত ঝালং ভুটান সীমান্তের কাছাকাছিও।
এখানে রয়েছে বেশ কিছু সুন্দর হোমস্টে। নদী আর পাহাড়ের সবুজের মাঝে পছন্দের কোনও একটি হোমস্টেতে দু’দিন নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দিতে পারেন। সকালে ঘুম ভাঙবে পাখির ডাকে, আর দিনের বেশির ভাগ সময়টাই কেটে যেতে পারে পাহাড়ি হাওয়া, নদীর শব্দ আর সবুজের দিকে তাকিয়ে। শহরের একঘেয়ে ব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে প্রকৃতির কোলে এমন অবসরই হয়তো আপনার ক্লান্ত মনকে অনেকটা সতেজ করে তুলবে।
ঝালংয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ জলঢাকা নদী। নদীর ধারে দাঁড়িয়ে পাহাড়ি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি এখানকার হোমস্টেগুলির অনেকগুলি থেকেই নদী ও আশপাশের সবুজ পাহাড়ের সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়। জলঢাকা নদীর উপর রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, যা এই এলাকার অন্যতম উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ।
ভুটানের দিকে যাওয়ার পথেও এই অঞ্চলের সেতু ও রাস্তার গুরুত্ব রয়েছে। প্রকৃতিপ্রেমী ও পাখিপ্রেমীদের কাছেও ঝালং আকর্ষণীয়। নদী ও আশপাশের জঙ্গলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। জলধারার আশপাশে দেখা যেতে পারে ক্রেস্টেড কিংফিশার, ব্রাউন ডিপার, হজসনের রেডস্টার্ট এবং স্যালটি-ব্যাকড ফর্কটেল-এর মতো পাখি। তাই শুধু পাহাড় দেখেই ফিরে আসা নয়, হাতে দূরবীন থাকলে ঝালংয়ের পাখির জগতও আপনাকে মুগ্ধ করতে পারে।
কী ভাবে যাবেন?
ঝালং যেতে হলে প্রথমে পৌঁছতে হবে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি)। এনজেপি থেকে ঝালংয়ের দূরত্ব আনুমানিক ৯৯–১০২ কিলোমিটার। সেখান থেকে রিজ়ার্ভ গাড়িতে যেতে সময় লাগতে পারে প্রায় চার ঘণ্টা, রাস্তার পরিস্থিতি ও যাত্রার সময়ের উপর নির্ভর করে।
তাই এ বার পুজোর ছুটিতে যদি শহরের ভিড়ের বদলে পাহাড়ি হাওয়া, নদীর কলকল শব্দ আর সবুজের মাঝে কয়েকটা শান্ত দিন কাটাতে চান, তা হলে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন ঝালংয়ের পথে।
১. ঝালং কোথায় অবস্থিত?
ঝালং কালিম্পং অঞ্চলে জালঢাকা নদীর পাশে অবস্থিত একটি শান্ত পাহাড়ি গ্রাম। এটি ভুটান সীমান্তের কাছাকাছি।
২. ঝালং কেন জনপ্রিয়?
জালঢাকা নদী, সবুজ পাহাড়, নিরিবিলি পরিবেশ এবং প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগের জন্য ঝালং ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয়।
৩. ঝালংয়ে কি হোমস্টে পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, ঝালংয়ে বেশ কিছু হোমস্টে রয়েছে। নদী ও পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করে সেখানে দু’দিন আরামে কাটানো যায়।
৪. ঝালংয়ে কী কী দেখা যায়?
জালঢাকা নদী, আশপাশের সবুজ পাহাড়, নদীর উপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ঝালংয়ের অন্যতম আকর্ষণ।
৫. ঝালংয়ে কী কী পাখি দেখা যায়?
এলাকায় ক্রেস্টেড কিংফিশার, ব্রাউন ডিপার, হজসনের রেডস্টার্ট এবং স্যালটি-ব্যাকড ফর্কটেলের মতো পাখি দেখা যেতে পারে।
৬. এনজেপি থেকে ঝালং কত দূর?
এনজেপি থেকে ঝালংয়ের দূরত্ব আনুমানিক ৯৯–১০২ কিলোমিটার।
৭. এনজেপি থেকে ঝালং যেতে কত সময় লাগে?
রিজ়ার্ভ গাড়িতে সাধারণত প্রায় চার ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। রাস্তার পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় কম-বেশি হতে পারে।
৮. পুজোর ছুটিতে ঝালং যাওয়া কেমন হবে?
যাঁরা পুজোর সময় শহরের ভিড় ও কোলাহল এড়িয়ে পাহাড়, নদী ও প্রকৃতির মাঝে শান্তিতে সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য ঝালং ভালো বিকল্প হতে পারে।