পনেরো দিনের বেশি অতিক্রান্ত। নেপালে গিয়ে নিখোঁঁজ হওয়া স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের এখনও হদিশ না মেলায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে শুভ্রাংশু রায় এবং তাঁর পরিবারের। এই পরিস্থিতিতে মুকুল রায়ের পুত্রের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিতে তাঁর কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে গেলেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ।
শনিবার রাতে কাঁচরাপাড়ায় শুভ্রাংশু রায়ের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন শতরূপ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কাঁচরাপাড়ার সিপিএম নেতা তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য দেবাশিস রক্ষিত।
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর শতরূপ বলেন, ‘শুভ্রাংশুর পরিবারের সঙ্গে আমরা আছি। সরকারের পাশেও আমরা আছি। এখন একমাত্র সরকারেরই চেষ্টা করা উচিত। কী ভাবে নিখোঁজদের হদিশ পাওয়া যাবে, সেই চেষ্টা করা উচিত।’ শতরূপ জানান, শুধু শর্মিষ্ঠা নন, মোট ৩২ জনের পরিবার তাঁদের প্রিয়জনের খবরের অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁদের সন্ধান পেতে প্রশাসনের পাশাপাশি তাঁদের পক্ষ থেকেও সব রকম ভাবে চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
সংবাদ মাধ্যমে পাওয়া চিনের বিদেশ মন্ত্রকের একটি সাংবাদিক বৈঠকের ভিডিয়ো শুক্রবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন শুভ্রাংশু। সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘করজোড়ে ও আশাবাদী হৃদয়ে আমরা ৫০০ জনেরও বেশি আটকে পড়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের এই ভিডিয়োটি শেয়ার করছি। আমরা ভারত সরকারকে বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি, এই রিপোর্টগুলো যাচাই করে আমাদের প্রিয়জনদের বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানান। কারণ আমাদের আশা যে অনেকেই এখনও দুর্গম এলাকায় আটকে আছেন এবং উদ্ধারের অপেক্ষা করছেন।’
মুকুল পুত্রের বিশ্বাস, চিনে আটকে পড়া ভারতীয় পর্যটক দলের মধ্যেই রয়েছেন তাঁর স্ত্রী শর্মিষ্ঠা। তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেটওয়ার্ক অকেজো হওয়া এবং নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে পর্যটকেরা নিরাপদ থাকা সত্ত্বেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। আশা-আশঙ্কার দোলাচলের অবসান ঘটাতেই ভারত সরকারের হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন শুভ্রাংশু।