লম্বাদের নাকি কদর বেশি! ইংরেজি যাকে বলে ‘হাইট-প্রিমিয়াম’। অর্থাৎ, জীবন-যৌবন-জীবিকায় তাঁরাই নাকি বেশি সুযোগসুবিধা পান! কিন্তু শরীরের উচ্চতা যদি একটু ‘বেশি’ই হয়? তখন সম্ভবত প্রতিবন্ধকতাই বেশি দেখা দেয়।
২১ বছরের জীবনে নানা অভিজ্ঞতাই এই উপলব্ধিতে পৌঁছে দিয়েছে নদিয়ার তেহট্টের সিভিলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা অঙ্কন দাসকে। ৬ ফুট ৭ ইঞ্চির, ছিপছিপে চেহারার অঙ্কন আজকাল বাস-ট্রেন বা অটো-টোটো, কোনও কিছুতেই চড়তে পারেন না। তাঁর চলাফেরার একমাত্র সম্বল বাইক। আর রাস্তায় বেরোলে তো সর্বক্ষণ ছায়ার মতো অনুসরণ করেই বিদ্রুপ-দৃষ্টি! অঙ্কন ইতিহাসের ছাত্র। বেতাই বিআর আম্বেডকর কলেজে স্নাতক স্তরের দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করেন। কলেজেও শুরুর দিকে উচ্চতার কারণে নানা সময়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তাঁকে। কথায় কথায় অঙ্কন বলেন, ‘রাস্তায় বেরোলেই লোকে কেমন হা করে তাকিয়ে থাকে। কী আর করব! ঈশ্বরের দান! মানিয়ে নিতেই হবে।’
অনেকের ক্ষেত্রে একটা বয়সের পরে হঠাৎ উচ্চতা বেড়ে যায়। কিন্তু অঙ্কনের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। ছোট থেকেই আর পাঁচটা শিশুর তুলনায় তাঁর উচ্চতা বেশি ছিল। কিন্তু তা যে বাড়তে বাড়তে এতটা হবে, কেউই বোঝেননি। অঙ্কন বলেন, ‘নিজের পছন্দ মতো জামাকাপড় পরতে পারি না। আমার মতো লম্বাদের জন্য তো রেডিমেড জামা-প্যান্ট হাটেবাজারে বা শপিং মলে পাওয়া যায় না। পাড়ার এক দর্জিই আমায় জামাকাপড় বানিয়ে দেন। ঘরেও ঠিক মতো চলাফেরা করতে পারি না। সব সময়ে মাথা নিচু করে এ ঘর থেকে ও ঘরে যেতে হয়।’
ছেলেকে নিয়ে আতঙ্কে থাকেন মা তিথিও। কখন সিলিং ফ্যান মাথায় লেগে যাবে! এই কারণে সর্বক্ষণ ছেলেকে সতর্ক করতে থাকেন মা। তিথি বলেন, ‘এলাকায় আমাদের ছেলের মতো এত দীর্ঘদেহী আর কেউ আছে বলে তো মনে হয় না।’ কিন্তু সব ভুলে পুজোর মরশুমে বাড়ির সকলের একটাই চিন্তা, অঙ্কনের জন্য নতুন জামা কেনা হবে কোথা থেকে। ঠাকুমা দুঃখ করছিলেন, ‘বাড়ির সকলে নতুন জামাকাপড় পরবে, আর ও পরবে না? এটা ভাবলেই খারাপ লাগে ভীষণ।’ পাশে বসা অঙ্কনও বলেন, ‘অতিরিক্ত লম্বা হওয়ার কারণে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি।’
রিপোর্টিং: নীলয় ভট্টাচার্য