ফের রক্ত ঝরল মণিপুরে। এ বার গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হলো কুকি সম্প্রদায়ের এক মহিলাকে। রবিবার এই খুনের ঘটনা ঘটেছে মণিপুরের তামেংলং (Tamenglong) এলাকায়। গুলিতে আহত হয়েছেন ওই মহিলার স্বামী এবং নাবালক সন্তানও।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোররাতে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় তামেংলং জেলার কাইমাই থানার টোলেন কুকি (Tollen Kuki) গ্রামে। হামলায় মৃত্যু হয় লিংজ়াঙ্গাই সিংশিট (Lhingzangai Singshit)-এর। তাঁর বাড়িতেই ওই হামলা চালানো হয়। দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর স্বামী সেইনে সিংশিট (Seineh Singshit) ও নাবালক পুত্র-ও।
ইম্ফল এবং জিরিবামের সংযোগকারী ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের লাগোয়া ওই গ্রামে কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, এনএসসিএন-আইএম (NSCN-IM) এবং নাগা ভিলেজ গার্ডস-এর লোকজন এর সঙ্গে জড়িত বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, রবিবার ভোররাতে গ্রামে ঢুকেই গুলি চালাতে শুরু করেও ওই সন্দেহভাজন জঙ্গিরা।
এর পরেই ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন কাইমাই গ্রাম কর্তৃপক্ষ (Kaimai Village Authority)। হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে বিভাজন তৈরির লক্ষ্যে এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি তাঁদের।
২০২৩ সালে মে মাস থেকেই মেইতেই এবং কুকি-জ়ো উপজাতির বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে অশান্ত মণিপুর। সেখানে শান্তি ফেরানোর একাধিক পদক্ষেপ করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। গত কয়েক দিনে কাংপোকপি-সহ একাধিক জায়গায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে। একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু ছাড়াও হামলা চালানো হয়েছে CRPF জওয়ান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপরেও। সেই সঙ্গেই দু’জন বিধায়কের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়।