প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ের মাঝেই উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করল কালীঘাট তৃণমূল। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। রবিবার সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে তৃণমূলের তরফে লেখা হয়, ‘আমাদের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পেরে আনন্দিত।’
নন্দীগ্রামে তৃণমূল (কালীঘাট) প্রার্থী হচ্ছেন সঞ্চিতা প্রধান (দে)।
রেজিনগর কেন্দ্রের তৃণমূল (কালীঘাট) প্রার্থী হলেন রবিউল আলম চৌধুরী।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই ভেঙে তিন টুকরো হয়ে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের প্রতীক ও স্বত্ব কার কাছে থাকবে তা নিয়ে টানাপড়েন চলছে নির্বাচন কমিশনে। রবিবার সকালেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, ১৬ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁদের কমিশন ডেকে পাঠিয়েছে। কমিশন কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ না দেওয়ায় ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলো কালীঘাট শিবিরের তরফে।
কংগ্রেস থেকে রাজনীতি শুরু করেছিলেন রবিউল আলম চৌধুরী। ২০১৩ সালে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিকে এই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হন রবিউল। ২০১৬ সালেও কংগ্রেসের টিকিটে জেতেন। পরে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রেজিনগর কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন রবিউল। তবে ২৬-এর নির্বাচনে তাঁকে এই কেন্দ্রে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। মুর্শিদাবাদে দীর্ঘদিন ধরেই চর্চিত AJUP নেতা হুমায়ুন কবীর ও রবিউল আলম চৌধুরীর দ্বন্দ্ব। তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন রবিউলের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্যের জেরে হুমায়ুনকে শোকজ করা হয়েছিল।
অন্য দিকে, নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের বয়ালের বাসিন্দা সঞ্জিতা প্রধান দে। তিনি পেশায় একজন শিক্ষিকা। নন্দীগ্রাম ২ পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী করা হয়েছিল পবিত্র করকে। শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ৯,৬৬৫টি ভোটে পরাজিত হন পবিত্র। উপনির্বাচনে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র থেকে কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। ভূমিকন্যাকেই বেছে নিল কালীঘাট তৃণমূল।